Logo

কড়াইল বস্তি থেকে উদ্বোধন হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড, থাকবেন প্রধানমন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ মার্চ, ২০২৬, ১৩:৪৩
কড়াইল বস্তি থেকে উদ্বোধন হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড, থাকবেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর কড়াইল বস্তি এলাকায় আগামী ১০ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে সরকারের নতুন সামাজিক নিরাপত্তা উদ্যোগ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। এদিন কড়াইল বস্তি সংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কর্মসূচিটির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই অনুষ্ঠানে তিনি দেশের আরও ১৪টি স্থানে এই কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সরকারি এক তথ্য বিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১০ মার্চ সকাল ১০টায় কড়াইল বস্তি সংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি মাঠে প্রধান উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকেই একযোগে দেশের ১৪টি এলাকায় কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু করার ঘোষণা দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বৈষম্যহীন ও মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য সামনে রেখে সরকার এই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে। ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’—এই ধারণাকে ভিত্তি করে কর্মসূচিটি প্রণয়ন করা হয়েছে।

বর্তমানে দেশে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে বহু সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি থাকলেও সমন্বয়ের অভাব, একই ব্যক্তি একাধিক সুবিধা নেওয়া এবং প্রকৃত দরিদ্রের একটি বড় অংশ তালিকার বাইরে থেকে যাওয়ার মতো সমস্যা রয়েছে। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড ব্যবস্থাপনা পরিচালিত হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এতে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বাড়বে।

বিজ্ঞাপন

উপকারভোগী নির্বাচন হবে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট (পিএমটি) স্কোরিং’ পদ্ধতিতে। ০ থেকে ১০০০ স্কোরের ভিত্তিতে ১ম (০–৭৭৭) ও ২য় (৭৭৮–৭৯৬) কোয়ান্টাইলভুক্ত অতি দরিদ্র ও দরিদ্র পরিবারগুলো পাইলট পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত হবে। পিএমটি হলো—সম্পদ ও আয়ের ভিত্তিতে দারিদ্র্য নির্ধারণের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি।

গ্রামীণ এলাকায় বসতভিটাসহ আবাদি জমি সর্বোচ্চ ০.৫০ একর হতে হবে। সরকারি চাকরিজীবী বা পেনশনভোগী সদস্য, বড় ব্যবসা বা বাণিজ্যিক লাইসেন্সধারী পরিবার এবং বিলাসবহুল সম্পদ (গাড়ি, এসি) থাকলে তারা অযোগ্য বিবেচিত হবে।

ভূমিহীন, গৃহহীন, প্রতিবন্ধী এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠী যেমন হিজড়া, বেদে ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পরিবারগুলো এই তালিকায় অগ্রাধিকার পাবে।

বিজ্ঞাপন

নারীর নামে কার্ড, মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা সহায়তা

নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে ফ্যামিলি কার্ডটি পরিবারের নারী প্রধান বা মায়ের নামে ইস্যু করা হবে। পাইলট পর্যায়ে প্রতিটি নির্বাচিত পরিবারকে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। অর্থ সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সুবিধাভোগী নারীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে।

একই স্মার্ট কার্ড এবং ওটিপি যাচাই ব্যবস্থার মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্য সহায়তা গ্রহণের সুবিধাও থাকবে। ভবিষ্যতে এই কার্ডের আওতায় শিক্ষা উপবৃত্তি, কৃষি ভর্তুকি ও অন্যান্য সামাজিক ভাতা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিদ্যমান টিসিবি কার্ডকেও ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি (ডিএসআর)-এর সঙ্গে একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

যেসব এলাকায় পাইলট বাস্তবায়ন

পাইলট প্রকল্পের জন্য দেশের ১৩টি ভিন্নধর্মী এলাকা নির্বাচন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ঢাকার বনানী (কড়াইল বস্তি), পাংশা (রাজবাড়ী), পটিয়া (চট্টগ্রাম), বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), লামা (বান্দরবান), খালিশপুর (খুলনা), চরফ্যাশন (ভোলা), দিরাই (সুনামগঞ্জ), ভৈরব (কিশোরগঞ্জ), বগুড়া সদর, লালপুর (নাটোর), ঠাকুরগাঁও সদর এবং নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর)।

দারিদ্র্যের ঘনত্ব, ভৌগোলিক বৈচিত্র্য ও অনগ্রসরতার মাত্রা বিবেচনায় এসব এলাকা বাছাই করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বাজেটের ৭৭ শতাংশ সরাসরি দরিদ্রদের হাতে

মোট ২ কোটি ১০ লাখ ৭২ হাজার ৩২৫ টাকার বাজেটের মধ্যে ১ কোটি ৬২ লাখ টাকা (৭৭ শতাংশ) সরাসরি ৬ হাজার ৫০০ পরিবারের হাতে নগদ সহায়তা হিসেবে যাবে। বাকি অর্থ তথ্য সংগ্রহ, ডাটা এন্ট্রি (প্রতি ফর্ম ২৫ টাকা), কমিটির সম্মানী, স্মার্ট কার্ড প্রিন্টিং ও উদ্বোধনী ব্যয়ে ব্যবহৃত হবে।

বিজ্ঞাপন

২০৩০ সালের লক্ষ্য

গাইডলাইনে ২০৩০ সালের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডকে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য ‘সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড’-এ রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৮ সালের মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা বাজেট জিডিপির ৩ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

কোথায় কত অর্থ ব্যয়

বিজ্ঞাপন

এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিন স্তরের কমিটি গঠন করা হবে। এসব কমিটির সভাপতিদের প্রতি সভায় ২ হাজার টাকা এবং সদস্যদের জন্য ১ হাজার টাকা সম্মানী নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৩টি ইউনিটের তিন স্তরের কমিটির জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ লাখ ১৪ হাজার টাকা। সভায় নাস্তা ও আপ্যায়নের জন্য জনপ্রতি ৩০০ টাকা করে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া প্রতিটি ইউনিটের জন্য ২ লাখ টাকা ‘অন্যান্য ব্যয়’ হিসেবে রাখা হয়েছে, যা সিল তৈরি, কাগজপত্র এবং জরুরি যাতায়াত খাতে ব্যবহৃত হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি এলাকায় প্রথমে এক হাজার পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। যাচাই-বাছাই শেষে সেখান থেকে ৫০০ পরিবার চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হবে। প্রতি তথ্য ফর্মের ডাটা এন্ট্রি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ টাকা। আর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ লাখ টাকা।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD