Logo

মাদক ও ধর্ষকের পক্ষে তদবির করলে নেতাদেরও কারাগারে পাঠানো হবে

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ জুন, ২০২৬, ১৭:১১
মাদক ও ধর্ষকের পক্ষে তদবির করলে নেতাদেরও কারাগারে পাঠানো হবে
ছবি: সংগৃহীত

ধর্ষণ ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের পক্ষে কোনো রাজনৈতিক নেতা তদবির করলে তাকেও একই মামলায় আসামি করে কারাগারে পাঠানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, নিজের দলের নেতা হলেও এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১৭ জুন) ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ধর্ষক কিংবা মাদক ব্যবসায়ীরা কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পদ হতে পারে না। তাদের রক্ষায় কেউ প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট নেতাকেও আইনের আওতায় আনা হবে। মাদক ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে এবং এ অবস্থান থেকে কোনো আপস করা হবে না।

বিজ্ঞাপন

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কেউ গোপনে দুর্নীতি করলেও তা নজর এড়াবে না। রাষ্ট্রের নজরদারি ব্যবস্থা এখন অনেক শক্তিশালী, ফলে অনিয়ম-দুর্নীতি শনাক্ত করা আগের চেয়ে সহজ হয়েছে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শূন্য পদগুলোতে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে। কোনো ধরনের রাজনৈতিক সুপারিশ বা তদবির গ্রহণ করা হবে না।

সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন সকাল ৯টায় অফিসে উপস্থিত হন। অথচ অনেক জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তার মধ্যে সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়ার অনীহা দেখা যায়। সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে রাষ্ট্র ও সমাজের অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব।

বিজ্ঞাপন

জনসেবার মান বাড়াতে দক্ষতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকার ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করছে, যাতে এক ছাতার নিচে বিভিন্ন সরকারি সেবা পাওয়া যায়।

পূর্ববর্তী সরকারের আমলের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় প্রথমে ৬০ কোটি টাকা ধরা হলেও পরে তা ২৮০ কোটিতে উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। যাচাই-বাছাইয়ে অনিয়মের তথ্য পাওয়ায় প্রকল্পটি একনেক বৈঠকে স্থগিত করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় ও বিদেশে অর্থ পাচার রোধে বর্তমানে প্রকল্পগুলোর বাস্তবতা মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সীমান্তবর্তী ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলে মাদক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, মাদক পাচারে এখন আধুনিক প্রযুক্তি, এমনকি ড্রোনও ব্যবহার করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে অল্প পরিমাণ মাদক বহন করায় অভিযুক্তরা সহজে জামিন পেয়ে যাচ্ছে। তবে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ সময় কালীগঞ্জের আলোচিত শিশু তাবাসসুম ধর্ষণ ও হত্যা মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ৬০ কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন দেশের জন্য একটি দৃষ্টান্ত। উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে এবং এ মডেল দেশের অন্যান্য স্থানেও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

চলতি অর্থবছরের বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি একটি সুপরিকল্পিত, দীর্ঘমেয়াদি ও জনকল্যাণমুখী বাজেট। বিরোধিতার খাতিরে বাজেটের সমালোচনা না করে এর ইতিবাচক দিকগুলো মূল্যায়নের আহ্বান জানান তিনি।

ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মোম নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সুধীজন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

এর আগে আইনমন্ত্রী ঝিনাইদহ পৌরসভা এলাকায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি আধুনিক কসাইখানার উদ্বোধন করেন। পরে শৈলকূপা উপজেলার বারইপাড়া স্কুল মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিরও উদ্বোধন করেন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD