Logo

স্বনির্ভর বাংলাদেশের ভিত্তি গড়বে প্রস্তাবিত বাজেট: আইনমন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ জুন, ২০২৬, ১৯:৪৭
স্বনির্ভর বাংলাদেশের ভিত্তি গড়বে প্রস্তাবিত বাজেট: আইনমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ঘোষিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেটকে দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও স্বনির্ভরতা অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ রূপরেখা হিসেবে অভিহিত করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তাঁর মতে, এই বাজেট শুধু বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; বরং বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী অর্থনৈতিক অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের দশম দিনের সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সরকারের উন্নয়ন দর্শনের ব্যাখ্যা দেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, অতীতে প্রায়ই বাজেট ঘোষণার পর সেটিকে ‘গরিববিরোধী’ কিংবা ‘ধনীদের পক্ষে’ বলে সমালোচনা করা হতো। তবে এবার সেই ধরনের সমালোচনা খুব একটা শোনা যাচ্ছে না। কারণ, প্রস্তাবিত বাজেটে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রয়োজন ও স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষ, মধ্যবিত্ত পরিবার, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, ব্যবসায়ী সমাজ এবং চাকরিপ্রত্যাশী তরুণদের জন্য নানা ধরনের সহায়ক উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় এই বাজেট তৈরি হয়েছে। এটি কোনো তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের ফল নয়; বরং দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যকে সামনে রেখে দীর্ঘ সময়ের পরিকল্পনার বাস্তব প্রতিফলন।

বাজেটকে ‘স্বপ্নবিলাসী’ ও ‘অতিরিক্ত উচ্চাভিলাষী’ বলে যারা সমালোচনা করছেন, তাদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, বড় স্বপ্ন ও উচ্চ লক্ষ্য ছাড়া কোনো জাতির অগ্রগতি সম্ভব নয়। উন্নত ও স্বনির্ভর রাষ্ট্র গঠনের জন্য সাহসী পরিকল্পনা গ্রহণ করতেই হবে। তিনি মনে করেন, এই বাজেট সেই বৃহৎ লক্ষ্য অর্জনের পথ প্রশস্ত করবে।

কৃষি খাতের বিষয়ে তিনি জানান, কৃষকদের সহায়তায় বিদ্যমান ভর্তুকি ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষি কার্ড, উৎপাদন বৃদ্ধিমুখী কর্মসূচি এবং বিভিন্ন প্রণোদনা কার্যক্রমও চালু থাকবে। এছাড়া নিম্নআয়ের মানুষের কাছে সরকারি সহায়তা আরও সহজে পৌঁছে দিতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষা খাত নিয়ে বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে শুধুমাত্র সনদভিত্তিক শিক্ষা যথেষ্ট নয়। দক্ষতা ও কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নের জন্য অতিরিক্ত প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা, যুব উন্নয়ন এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অর্থনীতিতে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। অর্থপাচার, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও একটি বাস্তবসম্মত ও উন্নয়নমুখী বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন অবকাঠামোগত ও পরিবেশভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি। এর মধ্যে খাল ও নদী পুনঃখনন, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

আইনমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর সুবিধা সম্প্রসারণ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিস্তার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও এতে প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার এমন একটি অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে চায় যেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং মানবিক মূল্যবোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। লুটপাট ও অর্থপাচারনির্ভর অর্থনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি টেকসই ও অংশগ্রহণমূলক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মো. আসাদুজ্জামানের মতে, প্রস্তাবিত বাজেট দেশের মানুষের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা এবং সুশাসনের সমন্বয়ে আগামী দিনের বাংলাদেশ গঠনের একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা এতে তুলে ধরা হয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD