দিল্লিতে বসে হুঙ্কার দিয়ে লাভ নেই, সীমানায় ঢুকলেই গ্রেফতার

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নিয়ে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে উল্লেখ করে দিল্লিতে অবস্থানরত দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। দেশের সীমান্তে প্রবেশ করলেই আইন অনুযায়ী তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দেশে আর কোনোভাবেই ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন হতে দেওয়া হবে না।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও গণহত্যার বিচার’ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে আইনমন্ত্রী বলেন, দেশের ভেতরে বিভেদের সুর দেখে দিল্লি থেকে আত্মসমর্পণের ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের আইনে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। তারা দেশে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই গ্রেপ্তার হবেন। তিনি বলেন, এমন প্রতিটি হুমকি দেশের মানুষকে আরও ঐক্যবদ্ধ করবে।
জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি তুলে ধরে আইনমন্ত্রী জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর ১৬টি তদন্ত শেষ হয়েছে। এর মধ্যে ১২টির প্রতিবেদন জমা পড়েছে এবং চারটি মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে আবু সাঈদ হত্যা ও হাসানুল হক ইনুর মামলাসহ তিনটি মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও জানান, ট্রাইব্যুনালে জমা হওয়া ৫৯০টি অভিযোগের মধ্যে ১০৯টি মামলা বাছাই করেছে প্রসিকিউশন। এর মধ্যে ৪৩টি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়েছে এবং ছয়টি মামলার বিচার শেষ হয়েছে। এসব রায়ে ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১১ জনকে যাবজ্জীবন এবং ৩৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া একজন রাজসাক্ষী খালাস পেয়েছেন। বর্তমানে ২৬টি মামলা বিচারাধীন এবং আরও চারটি মামলার রায় অপেক্ষমাণ।
আইনমন্ত্রী বলেন, শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড, আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিবাদের সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করার বিষয় এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় সংঘটিত জুলাই হত্যাকাণ্ড নিয়েও তদন্ত কার্যক্রম চলছে।
বিজ্ঞাপন
জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি একটি তুর্কি লোককবিতার উদাহরণ টেনে বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। গণভোটে বিভ্রান্তিকর প্রশ্ন সংযোজন কিংবা জুলাইয়ের চেতনা ব্যবহার করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা হলে তা নিয়ে মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের আদর্শ বাস্তবায়নে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আধিপত্যবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
রাজনৈতিক মিত্রদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, অতীতের রাজনৈতিক জোটের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, বিএনপির বাইরে গিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করা দলগুলো শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই পরীক্ষিত রাজনৈতিক মিত্রদের সঙ্গে ঐক্য ধরে রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।








