Logo

পুলিশের যানবাহনে হামলার আশঙ্কায় দেশজুড়ে বিশেষ সতর্কতা জারি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ আগস্ট, ২০২৬, ১৪:১৫
পুলিশের যানবাহনে হামলার আশঙ্কায় দেশজুড়ে বিশেষ সতর্কতা জারি
ছবি: সংগৃহীত

উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য বা দুর্বৃত্তদের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় পুলিশের ব্যবহৃত যানবাহনের নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। দেশব্যাপী মাঠপর্যায়ের সব ইউনিটকে পাঠানো এক জরুরি বার্তায় টহল, নজরদারি এবং নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (১ আগস্ট) পুলিশ সদর দপ্তরের অপারেশন্স কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ একটি বার্তায় বলা হয়, পুলিশের জিপ, পিকআপ, বাসসহ বিভিন্ন সরকারি যানবাহন হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালনরত সব ইউনিটকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, দায়িত্ব পালনকালে কোনো পুলিশি যানবাহন সাময়িকভাবে কোথাও থামিয়ে রাখতে হলে তা অবশ্যই নিরাপদ স্থানে পার্ক করতে হবে। পাশাপাশি যানবাহনগুলোকে পুলিশের সরাসরি নজরদারির আওতায় রাখতে হবে, যাতে কোনো ধরনের নাশকতা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে না পারে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া ডিউটি শেষে থানা, পুলিশ লাইনস কিংবা বিভিন্ন সরকারি অফিস কম্পাউন্ডে রাখা যানবাহনের নিরাপত্তাও আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব স্থানে নিয়মিত টহল পরিচালনা, সিসিটিভি ও অন্যান্য নজরদারি কার্যক্রম সক্রিয় রাখা এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তু শনাক্তে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে, কোনো ধরনের সন্দেহজনক কার্যক্রম বা নিরাপত্তা ঝুঁকির তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

যদিও এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। তবে সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, পুলিশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সময়ে সময়েই এ ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এটি নিয়মিত নিরাপত্তা কার্যক্রমেরই অংশ এবং এতে সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় রাজধানীতে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। গত ২৪ জুলাই মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি ছাতার ভেতরে রাখা শক্তিশালী ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) উদ্ধার করে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল। পরে সেটি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছিল, ওই বিস্ফোরকটি এমন একটি স্থানে রাখা হয়েছিল, যেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উল্টো রথযাত্রার শোভাযাত্রা অতিক্রম করার কথা ছিল। নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকা ঘিরে রাখা হয় এবং শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের শর্ট সার্কিটের অজুহাত দেখিয়ে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

এর পরদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে একটি ছাতা বের হয়ে থাকা পরিত্যক্ত বস্তা ঘিরেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটির পর বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করা হয় এবং তদন্ত শুরু হয়।

বিজ্ঞাপন

এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশন এলাকায় দুটি পরিত্যক্ত ব্যাগ ও বস্তা ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালায়। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, ওই দুটি বস্তুতে কোনো বিস্ফোরক ছিল না।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক এসব ঘটনার আলোকে সম্ভাব্য নাশকতার ঝুঁকি বিবেচনা করে পুলিশের যানবাহন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ের সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্ক থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে যেকোনো ধরনের হুমকি দ্রুত শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD