Logo

জুলাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৪১৬ জনের

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৮
জুলাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৪১৬ জনের
প্রতীকী ছবি

দেশজুড়ে গত জুলাই মাসে ৪৫৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৪১৬ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে আহত হয়েছেন আরও ৬২৯ জন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য বলে জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) প্রকাশিত রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত মাসিক দুর্ঘটনা সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতের মধ্যে নারী ৫৭, শিশু ৪৮। ১৫৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১৩৮ জন, যা মোট নিহতের ৩৩ দশমিক ১৭ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৩৪ দশমিক ৭১ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ১০৬ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৫১ জন, অর্থাৎ ১২ দশমিক ২৫ শতাংশ।

এই সময়ে ১৩টি নৌ-দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছেন। ২৯টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত এবং ১৮ জন আহত হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়— মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৩৮ জন যা মোট নিহতের ৩৩ দশমিক ১৭ শতাংশ। বাসের যাত্রী ২১ জন, ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রলি আরোহী ১৯ জন, মাইক্রোবাস-অ্যাম্বুলেন্স আরোহী ৭ জন, থ্রি-হুইলার যাত্রী (অটোরিকশা-অটোভ্যান-ইজিবাইক-সিএনজি-মিশুক) ৯৪ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নসিমন-ভটভটি-পাখিভ্যান) ২৬ জন এবং রিকশা-বাইসাইকেল আরোহী ৫ জন নিহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৬৯টি জাতীয় মহাসড়কে, ১৫৫টি ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে। এছাড়া ৬১টি গ্রামীণ সড়কে এবং ৬৬টি শহরের সড়কে এবং ৭টি অন্যান্য স্থানে সংঘটিত হয়েছে। দুর্ঘটনাগুলোর ১২৩টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৬৪টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১০৮টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দেওয়া, ৫৪টি যানবাহনের পেছনে আঘাত করা এবং ৯টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে-ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্র্যাক্টর-ট্রলি-লরি-ডাম্প ট্রাক-ময়লাবাহী ট্রাক ২২ দশমিক ৫০ শতাংশ, যাত্রীবাহী বাস ১৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স-জিপ ২ দশমিক ৯৫ শতাংশ, মোটরসাইকেল ২৪ দশমিক ১৯ শতাংশ, থ্রি-হুইলার (অটোরিকশা-অটোভ্যান- ইজিবাইক-সিএনজি-মিশুক-লেগুনা) ১৮ দশমিক ৪২ শতাংশ, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন (নসিমন-ভটভটি-আলমসাধু-পাখিভ্যান-টমটম-মাহিন্দ্র) ৭ দশমিক ৩১ শতাংশ, রিকশা-বাইসাইকেল ১ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং অজ্ঞাত যানবাহন ৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত ৭১১টি যানবাহনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে মোটরসাইকেল, এই সংখ্যা ১৭২। এর পরেই রয়েছে বাস ১২৪টি, ১৩১টি থ্রি-হুইলার ও তৃতীয় সর্বোচ্চ স্থানে রয়েছে ট্রাক, যার সংখ্যা ৯২।

বিজ্ঞাপন

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। মোট দুর্ঘটনার ২৯ দশমিক ০৩ শতাংশ এবং মোট প্রাণহানির ৩০ দশমিক ০৪ শতাংশই এ বিভাগে ঘটেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ, যেখানে মোট দুর্ঘটনার হার ২১ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং প্রাণহানির হার ১৯ দশমিক ২৩ শতাংশ।

ঢাকা বিভাগে জুলাই মাসে ১৩৩টি দুর্ঘটনায় ১২৫ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বরিশাল বিভাগে। সেখানে ২৮টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৪ জন। রাজধানী ঢাকায় ৩৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত এবং ৪৭ জন আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD