Logo

নতুন রাষ্ট্রপতি দেশ ও জনগণের পাশে থাকবেন, আশা সাধারণ মানুষের

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ আগস্ট, ২০২৬, ১৬:০৪
নতুন রাষ্ট্রপতি দেশ ও জনগণের পাশে থাকবেন, আশা সাধারণ মানুষের
ছবি: সংগৃহীত

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শুক্রবার শপথ নিতে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনের সময় দেশ ও সাধারণ মানুষের পাশে থাকবেন—এমন প্রত্যাশা জানিয়েছেন রাজধানীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

বিজ্ঞাপন

তাদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের নেতৃত্ব ধরে রেখেছেন। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনি রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের স্বার্থে দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নেবেন—এমনটাই আশা তাদের।

শুক্রবার রাজধানীর গুলিস্তান ও বঙ্গভবনের আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে এসব প্রত্যাশার কথা জানা যায়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের আয়োজন করা হয়েছে।

‘সম্মানিত একজন মানুষকে রাষ্ট্রপতি করা হয়েছে’

বিজ্ঞাপন

বঙ্গভবন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করেন চান্দু মিয়া। নতুন রাষ্ট্রপতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ও ক্ষমতা অনেক। এবার একজন সম্মানিত মানুষকে রাষ্ট্রপতি করা হয়েছে। এখন পরবর্তী বিষয় সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা।

তবে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা নিয়ে ভিন্ন মতও রয়েছে। গুলিস্তান এলাকায় প্রায় এক দশক ধরে রিকশা চালানো মানিক বলেন, রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদ হলেও সাধারণ মানুষের জীবনে তার কাজের প্রভাব অনেক সময় স্পষ্টভাবে দেখা যায় না।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

অন্য ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম বলেন, মির্জা ফখরুল ব্যক্তিগতভাবে ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক জীবনে নানা নির্যাতন ও প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দীর্ঘদিন দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার মতে, যোগ্য একজন ব্যক্তিকেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।

বঙ্গভবনের সামনের সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় মোজাম্মেল বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ছিলেন যোগ্য প্রার্থী। সাধারণ মানুষও তাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখার প্রত্যাশা করেছিল। তিনি আশা করেন, নতুন রাষ্ট্রপতি সবসময় দেশ ও জনগণের পাশে থাকবেন।

পথচারী রেজওয়ান বলেন, রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তি। তার মতে, সঠিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশের অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে নতুন রাষ্ট্রপতির। সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় রেখে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন—এটাই প্রত্যাশা।

বিজ্ঞাপন

৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর বৃহস্পতিবার দেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।

১৯৯১ সালের পর এবারই প্রথম একাধিক প্রার্থী নিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। এর আগে কয়েক দফা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সম্পন্ন হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে। মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য ভোটার থাকলেও ভোট দেন ৩৪৩ জন। সংসদ অধিবেশন কক্ষে নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে ভোট দেন তারা।

ভোটগ্রহণ শেষে বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন ফলাফল ঘোষণা করেন।

২৫৫ ভোটে নির্বাচিত মির্জা ফখরুল

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর একই রাতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন।

বিজ্ঞাপন

প্রজ্ঞাপনে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত মির্জা ফখরুলের বাবার নাম মির্জা রুহুল আমিন এবং ঠিকানা হিসেবে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ঠাকুরগাঁও পৌরসভার কালীবাড়ী গ্রামের উল্লেখ করা হয়েছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD