বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া: অর্থমন্ত্রী

দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট আগের সরকারের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সংকট নিরসনে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সম্পদ কাজে লাগাচ্ছে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে মজুতের অবস্থা ছিল অত্যন্ত নাজুক। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ১৭ দিনের মজুতও ছিল না। বর্তমানে তা বাড়িয়ে প্রায় এক মাসে নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে তিন মাসের মজুত গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। কারণ অর্থনীতির অগ্রগতির জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট সমাধানে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে আমির খসরু বলেন, প্রয়োজনীয় সম্পদ কাজে লাগানো হচ্ছে। তবে সবকিছু সরকারের একক নিয়ন্ত্রণে নেই। তাই শিল্প খাতকে বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই পরিকল্পনা করতে হবে। সময়ের সঙ্গে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
জ্বালানি সংকটের কারণে ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান ক্ষতির মুখে পড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর প্রভাব খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রেও পড়ছে। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ পুনঃতফসিল ও গ্রেস পিরিয়ডসহ একটি প্যাকেজ দিয়েছে। ব্যবসা থেকে বেরিয়ে যেতে চান এমন উদ্যোক্তাদের জন্যও নীতিগত সুযোগ রাখা হয়েছে।
ব্যাংকিং খাতে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, কোনো ঋণ কাগজে ব্যাংকের ব্যালান্সশিটে থাকলেও বাস্তবে তা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে সেটি ধরে রাখার যৌক্তিকতা নেই। ব্যাংকের ব্যালান্সশিট পরিষ্কার করে প্রকৃত তারল্য নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত প্যাকেজটি আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কোনো ব্যাংক থেকে সহযোগিতা না পেলে বিষয়টি সরকারকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প খাতের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি প্যাকেজ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। অতীতে এ ধরনের অর্থায়নে অনিয়ম ও প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপের অভিযোগ থাকলেও এবার সে সুযোগ রাখা হবে না বলে জানান তিনি।
আমির খসরু বলেন, আর্থিক খাতে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা পৃষ্ঠপোষকতা রাখা হবে না। নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণকারী ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদেরই ব্যাংক থেকে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। আর্থিক খাতকে বাজারের নিয়মে পরিচালনা এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।








