বৈশ্বিক সব সমস্যার সমাধান হয়তো হবে না, তবে চেষ্টায় ঘাটতি থাকবে না

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নতুন সভাপতি খলিলুর রহমান বলেছেন, বিশ্বের সব সমস্যার দ্রুত ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে সমাধান করা সম্ভব নাও হতে পারে। কিছু সমস্যা দীর্ঘ সময় ধরে থেকে যেতে পারে এবং সেগুলোর সমাধানেও সময় প্রয়োজন হতে পারে। তবে যেখানে সমাধানের সুযোগ রয়েছে, সেখানে সমস্যা নিরসনের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ঘাটতি থাকবে না।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সমাপ্তি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে ৮১তম অধিবেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণও অনুষ্ঠিত হয়।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের নতুন সভাপতি বলেন, সব সমস্যার দ্রুত ও বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধান হয়ে যাবে, এমনটা ভাবার মত সরল ব্যক্তি আমি নই। কিছু বিষয় আছে, যা সমাধান ছাড়া থেকে যাবে। কিছু বিষয় থাকবে, সেগুলোর সমাধান পেতে আমাদের সময় লাগতে পারে। তার মানে এই নয় যে, যেখানে আমরা পারি সেখানে সহাবস্থানে যাওয়ার চেষ্টা আমরা করব না। সেটা করার চেষ্টাই আমি অব্যাহতভাবে করে যাব।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা যে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সেটা উল্লেখ করে খলিলুর রহমান বলেন, আমি মনে করি, সদস্য রাষ্ট্রগুলো যদি একসঙ্গে কাজ করে তাহলে আমার কাজ সহজ হয়ে যাবে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বৈশ্বিক সংস্থার সংস্কারে যেসব প্রস্তাব দিয়েছেন, সেগুলো এগিয়ে নিয়ে যেতে উদ্যোগ নেয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।
নাগরিক সমাজ, ব্যবসায়িক গোষ্ঠী, শিক্ষাবিদসহ বিভিন্ন অংশের মানুষকে জাতিসংঘের কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার আশাও দেখিয়েছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারা জাতিসংঘে কীভাবে প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে, যেখানে তাদের প্রতিনিধিত্বই নেই এমন এক প্রশ্নের উত্তরে খলিলুর রহমান বলেন, এর আগে বাংলাদেশ সরকার প্রধানের রোহিঙ্গা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টিটিভ হিসাবে তিনি পরিস্থিতি সরাসরি দেখেছেন। তাদের যন্ত্রণা ও বাড়ি ফেরার তাড়নাও প্রত্যক্ষ করেছেন।
উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও রাজনীতিবিদ হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী। রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
পরবর্তীতে হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট কূটনীতিক ও রাজনীতিবিদ হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দেশের সংসদীয় রাজনীতিতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
বিজ্ঞাপন








