Logo

গণমাধ্যমে মানহানিকর কর্মকাণ্ড ঠেকাতে নজর রাখবে সরকার: তথ্যমন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৭:১০
গণমাধ্যমে মানহানিকর কর্মকাণ্ড ঠেকাতে নজর রাখবে সরকার: তথ্যমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

সংবাদমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে এবং মানহানিকর কর্মকাণ্ড ঠেকাতে সরকার নজর রাখবে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। অনলাইনভিত্তিক এক গণমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা হলো—সংবাদমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

পার্থ বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের কাছ থেকে আমাদের শিক্ষা এটা যে, সংবাদমাধ্যমকে ‘মুক্ত’ করে দাও; সংবাদমাধ্যম তার কাজ করুক।”

তবে একইসঙ্গে সংবাদ পরিবেশনে বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তিনি বলেন, “বাট এগেইন, সংবাদমাধ্যম যাতে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ করে, কোনো ডেফামেশন বা মানহানিকর কাজ না করে, সেদিকেও সরকার হিসেবে আমরা খেয়াল রাখব।”

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

গত ২১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়ার পর এটিই ছিল বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থের প্রথম সাক্ষাৎকার। দীর্ঘ এই আলোচনায় তিনি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাইবার সুরক্ষা আইন, সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের সংস্কার, নতুন টেলিভিশনের অনুমোদন, এফডিসি ও চলচ্চিত্র শিল্পের অবস্থা, শিল্পীদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ এবং ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেন।

সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে পার্থ বলেন, কেবল রাজনৈতিক মত বা কোনো দলের প্রতি সমর্থনের কারণে কাউকে কারাগারে রাখা ঠিক নয় বলে তিনি মনে করেন।

বিজ্ঞাপন

তবে তিনি দাবি করেন, কিছু সাংবাদিক সাংবাদিকতার সীমা অতিক্রম করে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। তিনি স্পষ্ট করেন, আটক সব সাংবাদিককে একইভাবে মূল্যায়ন করা উচিত নয়।

সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে উদ্বেগ প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গালিগালাজ ও অবমাননাকর ভাষার ব্যবহার ঠেকাতে কোনো না কোনো ধরনের জবাবদিহি থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আইনটি যেন অপব্যবহার না হয়, সেদিকেও নজর রাখার কথা বলেন তিনি।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশনকে শুধু সরকারের মুখপাত্র হিসেবে না রেখে বিরোধী দলের কর্মকাণ্ডও তুলে ধরার উদ্যোগের কথা জানান পার্থ। তিনি বলেন, বিটিভির অনুষ্ঠান ও সংবাদে মানোন্নয়নের পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে বিভিন্ন পক্ষকে কভার করার চেষ্টা চলছে।

বিজ্ঞাপন

বেসরকারি টেলিভিশনের নতুন লাইসেন্স প্রসঙ্গে তিনি জানান, এখনো তার কাছে নতুন কোনো আবেদন বা ফাইল আসেনি। তবে যোগ্যতা ও নির্ধারিত মানদণ্ড যাচাই করে ভালো কাজ করতে সক্ষম প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে সরকারের আপত্তি নেই বলে জানান তিনি।

সাংবাদিকদের বেতন ও অধিকার নিয়েও কাজ করার কথা জানান তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের আর্থিক পরিস্থিতি এবং পেশাগত অধিকার নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং বিষয়গুলো বাস্তবায়নের দিকে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

চলচ্চিত্র শিল্পের সংকট নিয়ে পার্থ বলেন, এফডিসির অবনতি একদিনে হয়নি। তার মতে, শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, দীর্ঘমেয়াদে ভালো শিল্পী ও মানসম্মত চলচ্চিত্র তৈরির পরিবেশ গড়ে তোলাও জরুরি।

বিজ্ঞাপন

শিল্পীদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকার জনপ্রিয় শিল্পী ও সেলিব্রিটিদের রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের চেষ্টা করেছে। তার মতে, এর ফলে অনেক শিল্পী এখন সামাজিক ও পেশাগতভাবে নানা ধরনের সংকটে পড়েছেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বাধাগ্রস্ত হওয়ার প্রসঙ্গে পার্থ বলেন, এসব ঘটনায় সরকারের সরাসরি দায় নেই, তবে অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক চর্চার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। কোনো এলাকায় সাংস্কৃতিক আয়োজন নিয়ে সমস্যা হলে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর পরামর্শ দেন তিনি।

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে পার্থ বলেন, দলটির সামনে আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পথ সহজ নয়। তবে তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের ভবিষ্যৎ এভাবে হিসাব করে নির্ধারণ করা যায় না।

তিনি জানান, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অনুশোচনা প্রকাশ বা নতুনভাবে রাজনীতিতে ফেরার ইতিবাচক উদ্যোগ তিনি দেখতে পাচ্ছেন না।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ ইউনূস সাহেবকে নিয়েই বেশি ব্যস্ত, ওই ট্রমা থেকে তারা বের হতে পারে নাই।”

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়েও বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী। তার মতে, দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন আস্থার ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে ভারতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার না হওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশকে আস্থা দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতের যেকোনো চুক্তি ন্যায্যতার ভিত্তিতে হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD