Logo

৪৫৯২ জনবলের সাইবার পুলিশ ইউনিটে থাকবেন ডার্ক ওয়েব বিশ্লেষক

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৯:২৫
৪৫৯২ জনবলের সাইবার পুলিশ ইউনিটে থাকবেন ডার্ক ওয়েব বিশ্লেষক
ছবি: সংগৃহীত

সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় ৪ হাজার ৫৯২ জনবলের একটি বিশেষায়িত সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠন করছে সরকার। নতুন এই কাঠামোয় সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট, ফিন্যান্সিয়াল ডেটা অ্যানালিস্ট, ক্রিপ্টো অ্যানালিস্ট, ম্যালওয়্যার অ্যানালিস্ট এবং ডার্ক ওয়েব অ্যানালিস্টসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ যুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সাইবার পুলিশ ইউনিটের ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন ইউনিটের নেতৃত্বে থাকবেন একজন অতিরিক্ত আইজিপি। বিভাগীয় ও সদর দপ্তর পর্যায়ে একাধিক ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজি দায়িত্ব পালন করবেন। জেলা পর্যায়ে পুলিশ সুপার পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং থানায় ইউনিটটির জন্য পৃথক সাব-ইন্সপেক্টর, এএসআই ও কনস্টেবল দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি বলেন, “এই ইউনিটের মোট জনবল সংখ্যা আমরা এখন পর্যন্ত অর্গানোগ্রামে ৪ হাজার ৫৯২ জন নির্ধারণ করেছি।” বিদ্যমান জনবল থেকে প্রয়োজনীয় সদস্য দিয়ে প্রাথমিকভাবে ইউনিটের কার্যক্রম চালানো হবে। পরে নিয়োগের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ জনবল কাঠামো গড়ে তোলা হবে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

নতুন ইউনিটকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও মেধাভিত্তিক সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার কথা জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এতে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জাম যুক্ত করা হবে।

বিজ্ঞাপন

বর্তমান সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবারভিত্তিক কর্মকাণ্ডের বিস্তার ঘটায় প্রচলিত আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার পাশাপাশি ফরেনসিক ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর প্রয়োজন হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক, জুয়া, সন্ত্রাস, মানি লন্ডারিং, আর্থিক অপরাধ, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সাইবার অপরাধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ফরেনসিক ও ডিজিটাল ল্যাবের প্রয়োজনীয়তা ক্রমেই বাড়ছে।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এতদিন সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বিভিন্ন পর্যায়ে বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করা হতো। এর ফলে সমন্বয়হীনতা তৈরি হতো। নতুন ইউনিটের মাধ্যমে এসব কার্যক্রমকে একটি সংগঠিত কাঠামোর অধীনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নতুন সাইবার পুলিশ ইউনিটে প্রচলিত পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি প্রযুক্তি ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞ নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে। এসব পদের মধ্যে রয়েছে সিস্টেম অ্যানালিস্ট, ফিন্যান্সিয়াল ডেটা অ্যানালিস্ট, সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট, ইমার্জেন্সি রেসপন্স কনসালট্যান্ট, নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, ডিজাস্টার রিকভারি এক্সপার্ট, কনটেন্ট ডেভেলপার, ক্রিপ্টো অ্যানালিস্ট, ম্যালওয়্যার অ্যানালিস্ট, ডার্ক ওয়েব অ্যানালিস্ট, কমিউনিকেশন এক্সপার্ট এবং সোশ্যাল মিডিয়া অ্যানালিস্ট।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রয়োজন অনুযায়ী এসব বিশেষজ্ঞকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া যাবে। তাদের বেতন-ভাতার কাঠামোও নিয়মিত পুলিশ সদস্যদের তুলনায় আলাদা রাখার সুযোগ থাকবে।

পুলিশের যেসব সদস্য সাইবার বিষয়ে দক্ষ অথবা সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহী, তাদেরও নতুন ইউনিটে যুক্ত করা হবে। উপযুক্ত কর্মকর্তাদের দেশে ও বিদেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

সিনিয়র কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে একটি দলকে বিদেশে প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। পাশাপাশি ইউনিটের কাজে অবদান রাখা বিশেষজ্ঞদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

সাইবার নিরাপত্তা আইন আধুনিকায়নের উদ্যোগ

সাইবার সিকিউরিটি আইন আরও আধুনিকায়নের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ বিষয়ে সাংবাদিক, সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে একাধিকবার মতবিনিময় হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তাদের মতামত নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নতুন আইনে সাইবার-সংশ্লিষ্ট অপরাধগুলো আরও সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

আইনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে নিরপরাধ বা ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন এমন কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সংশোধন প্রক্রিয়ায় সেই বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এটা খুবই সেনসিটিভ আইন, সেজন্য আমরা দীর্ঘ সময় নিচ্ছি। সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সেই বিলটা আমরা নিয়ে আসব।”

সাইবার কার্যক্রমকে এক কাঠামোয় আনার পরিকল্পনা

বিজ্ঞাপন

পুলিশের বিদ্যমান সাইবার ক্রাইম ইউনিট ও সিআইডির সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম নতুন কাঠামোর অধীনে আসবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিদ্যমান কার্যক্রমগুলোকে আরও সুসংগঠিত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “আগে অসংগঠিত প্রক্রিয়াটা এভাবে ছিল না, এখন আমরা একটা আমব্রেলার নেতৃত্বে নিয়ে আসছি। একটা সুসংগঠিত রূপ দিতে যাচ্ছি।”

নতুন কাঠামোয় ঢাকায় সদর দপ্তর একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। বিভাগীয় পর্যায়ে ডিআইজি এবং জেলা পর্যায়ে এসপি পর্যায়ের কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করবেন। থানায় ইন্সপেক্টরের নেতৃত্বে সাব-ইন্সপেক্টর, এএসআইসহ অন্যান্য সদস্য কাজ করবেন।

বিজ্ঞাপন

মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলা হবে। অন্যদিকে সদর দপ্তর ও বিভাগীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD