Logo

সমুদ্রে ডুবতে থাকা নৌকা থেকে ৭৬ জনকে উদ্ধার করলো নৌবাহিনী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪:৪৬
সমুদ্রে ডুবতে থাকা নৌকা থেকে ৭৬ জনকে উদ্ধার করলো নৌবাহিনী
ছবি: সংগৃহীত

সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সময় ইঞ্জিন বিকল হয়ে ডুবতে থাকা একটি বোট থেকে ৭৬ জনকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এ ঘটনায় মানবপাচারকারী চক্রের ১১ সদস্যকে আটক করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (২ অক্টোবর) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার দিনগত রাতে নিয়মিত টহলের সময় সেন্টমার্টিন লাইট হাউস থেকে আনুমানিক ৮১ মাইল দূরে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। এ সময় টহলরত নৌবাহিনীর জাহাজ বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ বোটটি উদ্ধার করে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

নৌবাহিনী জানায়, সমুদ্রে মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত এফভি ক্রিস্টাল-১ নামের একটি বোট ইঞ্জিন বিকল অবস্থায় একটি ভাসমান কাঠের বোট দেখতে পায়। সেটিকে সহায়তা করতে এগিয়ে গেলে বোটে থাকা কয়েকজনের আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। পরে বিষয়টি নৌবাহিনীকে জানানো হলে সেন্টমার্টিন ও আশপাশের এলাকায় টহলরত বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে।

নৌবাহিনীর সদস্যরা গিয়ে দেখতে পান, ভাসমান বোটটিতে পানি প্রবেশ করছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এরপর বোটে থাকা ৭৬ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসা, খাবার এবং প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

আইএসপিআর জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধার হওয়া ৭৬ জনের মধ্যে ১১ জনকে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। বাকি ৬৫ জন মালয়েশিয়ায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে নৌবাহিনী।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, উদ্ধার হওয়া ৬৫ জনের অধিকাংশকে মানবপাচারকারী চক্রের মাধ্যমে অপহরণ করে টেকনাফের দুর্গম এলাকায় আটকে রাখা হয়েছিল। পরে তাদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর উদ্দেশ্যে সমুদ্রপথে নেওয়া হচ্ছিল। বোটটি অবৈধভাবে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় যাত্রী পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

আটক ব্যক্তিদের এবং জব্দ করা বোটটি পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য টেকনাফ থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম চলছে। ইঞ্জিন ও পাম্প বিকল হয়ে বোটে পানি ঢুকে পড়ায় যাত্রীদের জীবন চরম ঝুঁকির মধ্যে ছিল। দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনার ফলে সম্ভাব্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

মানবপাচার ও চোরাচালান দমন, সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সমুদ্রে অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়মিত টহল ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD