Logo

পণ্য-সেবার বিক্রয় রসিদ না দিলে হতে পারে এক বছরের জেল

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১৭:৩৩
পণ্য-সেবার বিক্রয় রসিদ না দিলে হতে পারে এক বছরের জেল
ছবি : এআই দিয়ে তৈরি

কোনো পণ্য, ওষুধ বা সেবা বিক্রির সময় ক্রেতা বা সেবাগ্রহীতাকে বিক্রয় রসিদ না দিলে সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রেখে ‘ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া তৈরি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

২০০৯ সালের ‘ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন’ সংশোধনের মাধ্যমে নতুন বিধান যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বর্তমানে খসড়াটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত নেওয়া হচ্ছে।

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে ৫৩ক নামে নতুন একটি ধারা যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এতে কোনো বিক্রেতা পণ্য, ওষুধ বা সেবা বিক্রির পর ক্রেতা বা সেবাগ্রহীতাকে বিক্রয় রসিদ না দিলে সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, বিক্রয় রসিদ কোনো লেনদেনের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণক। পণ্য বা সেবা কেনার পর মূল্য, বিক্রেতার পরিচয় এবং লেনদেনের তথ্য যাচাইয়ে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি ভোক্তা-অধিকার সংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রে বিক্রেতার দায় নির্ধারণেও রসিদ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

এ কারণে ক্রেতা ও সেবাগ্রহীতাকে বিক্রয় রসিদ দেওয়া বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত আইন কার্যকর হলে পণ্য, ওষুধ বা সেবা বিক্রির পর রসিদ না দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে দেশে উৎপাদিত বা আমদানি করা পণ্য মোড়কজাত করে বিক্রির ক্ষেত্রে মোড়কের গায়ে বিভিন্ন তথ্য উল্লেখ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও রয়েছে। এর মধ্যে পণ্যের মাত্রা বা ওজন, পরিমাণ, ব্যবহারবিধি, উপাদান, সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য, উৎপাদনের তারিখ, প্যাকেটজাতকরণের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, মডেল বা ব্যাচ নম্বর এবং উৎপাদনকারী, মোড়কজাতকারী ও আমদানিকারকের নাম-ঠিকানা উল্লেখের বিধান রয়েছে।

প্রস্তাবিত এসব তথ্য না থাকা সত্ত্বেও কোনো পণ্য বিক্রি, বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া বা বিক্রির উদ্দেশ্যে প্রদর্শন করা হলে সেটিকেও অপরাধ হিসেবে গণ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নকল ও ভেজাল পণ্যে বাড়ছে অপরাধের পরিধি

বিজ্ঞাপন

খসড়া আইনে নকল পণ্য বা ওষুধের ক্ষেত্রে শুধু উৎপাদন বা তৈরির বিষয়টিই নয়, আমদানি, মজুত, সরবরাহ, বিক্রি এবং বিক্রির প্রস্তাবকেও ভোক্তা অধিকারবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ভেজাল পণ্য বা ওষুধের ক্ষেত্রেও বিক্রি কিংবা বিক্রির প্রস্তাবের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ রয়েছে। ফলে নকল ও ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া সংশোধিত আইনে নিষিদ্ধ পণ্য এবং অনলাইন জুয়ার বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধেও নতুন বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত ৪১ক ধারায় ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠান, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, প্ল্যাটফর্মের বিক্রেতা বা মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে আইন দ্বারা নিষিদ্ধ কোনো পণ্য, ওষুধ বা সেবা বিক্রির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

একই ধারায় অনলাইন জুয়া বা বেটিংয়ের আয়োজন করা কিংবা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সহায়তা করাকেও অপরাধের আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে। এসব অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা তিন লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD