Logo

গ্রেপ্তার ৭ জনের ৫ জনই সরকারি কর্মচারী, চুক্তি ৮-১০ লাখ টাকা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১৮:৫০
গ্রেপ্তার ৭ জনের ৫ জনই সরকারি কর্মচারী, চুক্তি ৮-১০ লাখ টাকা
ছবি: সংগৃহীত

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের পাঁচ কর্মচারীসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৩। তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, চাকরিপ্রার্থীদের কাছে প্রশ্নপত্র সরবরাহের বিনিময়ে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার চুক্তি হয়েছিল। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল উৎস এখনো শনাক্ত করা যায়নি।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।

তিনি জানান, গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে ২৪২টি শূন্যপদে নিয়োগের বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এতে মোট ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেন। সকাল ১১টায় পরীক্ষা শুরুর নির্ধারিত সময় থাকলেও ওই দিন সকাল ১০টা ৩ মিনিটে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এসআরবি ছায়া তদন্ত শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় ১৪, ১৫ ও ১৬ অক্টোবর রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় ১১ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মতিঝিল থানায় মামলা করা হয়।

বিজ্ঞাপন

গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারী

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. রুবেল ইসলাম (৩৩), চাকরিপ্রার্থী মো. মফিজুল ইসলাম (২৩), মো. হাসিনুর রহমান সুজন (৩২), জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম (৩৫), প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলাম (৩৩), এনবিআরের অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ (৩০) এবং এনবিআরের কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীর (৩৮)।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন জানান, ১৪ অক্টোবর মতিঝিল এলাকা থেকে রুবেল ইসলাম, মফিজুল ইসলাম ও হাসিনুর রহমান সুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরখান থেকে ইমদাদুল ইসলাম এবং এসআরবি-৪-এর সহায়তায় মিরপুর-১০ এলাকা থেকে আসাদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনের কথোপকথন ও চ্যাট পর্যালোচনা করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ অক্টোবর সাভার থেকে নূর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-৪। পরে তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে ১৬ অক্টোবর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

যেভাবে ছড়ানো হয় প্রশ্নপত্র

তদন্তে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনের চ্যাট পর্যালোচনা করে প্রশ্নপত্র আদান-প্রদানের একটি ধারাবাহিকতা পাওয়া গেছে বলে জানান এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ১০ অক্টোবর ভোর ৪টা ৪৩ মিনিটে নূর মোহাম্মদ একটি সূত্রের মাধ্যমে প্রশ্নপত্রের অস্পষ্ট ছবি পান। পরে সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে জাহাঙ্গীর তাঁকে প্রশ্নপত্রের স্পষ্ট ছবি পাঠান।

এরপর নূর মোহাম্মদ প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রস্তুত করে জাহাঙ্গীর ও ইমদাদুলকে পাঠান। পরে চক্রের সদস্য এবং তাঁদের সঙ্গে যুক্ত পরীক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্নপত্র ও উত্তর পৌঁছে দেওয়া হয়। এ প্রক্রিয়ায় আসাদুল, রুবেল, মফিজুল ও সুজনও যুক্ত ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, চক্রটি হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করত।

বিজ্ঞাপন

প্রশ্নপত্রের মূল উৎস এখনো শনাক্ত হয়নি

সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নপত্রের মূল উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, নূর মোহাম্মদ সকালে যে প্রশ্নপত্র পেয়েছিলেন, সেটি কে সরবরাহ করেছিলেন, তা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে এ বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেও সন্তোষজনক তথ্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

নূর মোহাম্মদ ও জাহাঙ্গীর দাবি করেছেন, তাঁরা ফেসবুকের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র পেয়েছেন। কিন্তু তাঁদের বক্তব্যকে এখনো নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচনা করছে না তদন্ত দল। তাঁরা যেসব ফেসবুক গ্রুপ ও আইডির কথা বলেছেন, সেগুলো যাচাই করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

ফায়েজুল আরেফীন বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষ হয়নি। এর সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতেও অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি

প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত কি না, জানতে চাইলে এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক বলেন, এখন পর্যন্ত ওই অধিদপ্তরের কারও সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে অন্যান্য সরকারি দপ্তরের কর্মচারীদের এ ঘটনায় জড়িত থাকার তথ্য মিলেছে। তদন্তে আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।

বিজ্ঞাপন

উদ্ধার হয়েছে বিপুল নথিপত্র ও মোবাইল ফোন

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১০০ টাকার ১১৬টি স্ট্যাম্প, ৫০ টাকার চারটি স্ট্যাম্প, প্রশ্নপত্রের এক সেট, বিভিন্ন পরীক্ষার প্রবেশপত্রের ১৯ পাতা, ১০টি সনদপত্র, বিভিন্ন ব্যাংকের চেকের ৪৮ পাতা ও একটি ব্যাংক চেক, আটটি মোবাইল ফোন, বিভিন্ন ক্যাটাগরির আরও ১৫টি সনদপত্র, ছয়টি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং নগদ চার হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে।

এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক আরও জানান, চক্রের এক সদস্যের কাছ থেকে প্রতারিত হওয়ার পর মফিজুল ইসলাম বেশি অর্থ উপার্জনের আশায় ওই চক্রে যুক্ত হন। এ ছাড়া ভর্তি-বাণিজ্যসংক্রান্ত অর্থ লেনদেনের তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের পুরো নেটওয়ার্ক এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD