Logo

চালকের আচরণ ও গাড়ির ফিটনেসের কথা বললেই গাত্রদাহ হয়: সড়কমন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩:৫৫
চালকের আচরণ ও গাড়ির ফিটনেসের কথা বললেই গাত্রদাহ হয়: সড়কমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

চালকদের আচরণ পরিবর্তন এবং গাড়ির ফিটনেস নিশ্চিত করার কথা বললেই কারও কারও গাত্রদাহ (গায়ের জ্বালা) হয় বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, সড়কে প্রাণহানি বন্ধে কোন পদক্ষেপ কার্যকর হবে, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানালে সরকার সেই দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, “আমাকে কেউ যদি বলতে পারেন, যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এই কাজটি বা কাজগুলো করলেই সড়কে একটি প্রাণও ঝরবে না, আমি তা-ই করব। আমাকে বলেন, কোন কাজটি করলে সড়কে একটি প্রাণও যাবে না। নিশ্চয়ই সেই দায়িত্ব নিতে চাই, সরকার সেই দায়িত্ব নিতে চায়।”

চালকের দায়িত্বশীল আচরণের ওপর গুরুত্ব

বিজ্ঞাপন

আলোচনা সভায় কয়েকজন বক্তার বক্তব্যের সময় উপস্থিত চালকদের একাংশ হৈচৈ শুরু করেন। তাঁদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, পরিবহন খাতের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা যেভাবে মেজাজ হারাচ্ছেন, স্টিয়ারিংয়ে বসেও একই আচরণ করলে দুর্ঘটনা এড়ানো কঠিন হবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, “আমাদের শুনতে হবে, মানতে হবে এবং কাজ করতে হবে। আমরা কেউ কারও প্রতিপক্ষ নই। এখানে যারা আছি, সবারই দায়িত্ব হচ্ছে নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা করা।”

সড়ক দুর্ঘটনার দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রেও বাস্তবতা বিবেচনার আহ্বান জানান শেখ রবিউল আলম। তাঁর ভাষ্য, প্রত্যন্ত অঞ্চলে কোনো ভ্যান উল্টে খাদে পড়ে কেউ নিহত হলে প্রতিটি ঘটনাকেই সরাসরি সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায় হিসেবে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। প্রতিদিন সড়কে আশঙ্কাজনক হারে মানুষ মারা যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সব ধরনের দুর্ঘটনাকে একইভাবে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার প্রবণতাও পর্যালোচনা করা দরকার।

বিজ্ঞাপন

দক্ষ চালক তৈরিতে মালিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান

মন্ত্রী বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ চালকদের সচেতনতা ও দক্ষতার অভাব। এ সমস্যা কাটিয়ে উঠতে দক্ষ ও যোগ্য চালক নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য পরিবহন মালিক সমিতির দায়িত্বশীল নেতাদের কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

শেখ রবিউল আলম বলেন, পরিবহন খাতে পরিবর্তন আনার বিষয়ে মালিকদের আন্তরিকতা রয়েছে। তাঁরাও আমূল পরিবর্তন চান। তবে কিছু ক্ষেত্রে রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব হচ্ছে না। তার মানে এই নয় যে সরকার হাল ছেড়ে দিয়েছে। যেকোনো মূল্যে নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা করতে সরকার কাজ করছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ, পরিকল্পনা ও কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে, যেগুলোর বাস্তবায়ন চলছে। জাতিসংঘে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার যে অঙ্গীকার করেছে সরকার, তা বাস্তবায়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

অন্যের ওপর দায় চাপানোর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার তাগিদ

সড়কে অটোরিকশার চলাচল ও ফুটপাত দখলের মতো সমস্যার প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, শুধু এসব সমস্যার সমালোচনা করলেই হবে না; ব্যক্তিগত জীবনেও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল সমর্থন করেন না, তাঁদের মধ্যে কতজন নিজেরা অটোরিকশায় ওঠা বন্ধ করেছেন? একইভাবে ফুটপাতে দোকান বসানো ও চলাচলে বাধা সৃষ্টি করার বিরোধিতা করলেও নিজের আত্মীয়ের দোকান বা নিজের বাসা কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে ফুটপাত দখল হলে অনেকে প্রতিবাদ করেন না।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন না করলে দেশের আমূল পরিবর্তনের প্রত্যাশা বাস্তবে রূপ দেওয়া কঠিন হবে। নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত দায়িত্বও যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

সরকারের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান

বিজ্ঞাপন

পরিবহন মালিক, শ্রমিক, প্রকৌশলী, পুলিশ ও সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে সরকারের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কোথায় কী পদক্ষেপ প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করে প্রস্তাব দিলে সরকার তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে। শুধু সরকারের ওপর দায় চাপিয়ে নয়, প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি রকিবুল ইসলাম, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফ, বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ফারুক তালুকদার সোহেল, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আবদুর রহিম বক্স দুদু ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD