অবশেষে গ্রেপ্তার আলোচিত হরিদাস চন্দ্র

অর্থপাচার (মানিলন্ডারিং) মামলায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর আলোচিত ব্যক্তি হরিদাস চন্দ্র তরনী দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। রবিবার গভীর রাতে পরিচালিত এক অভিযানে তাকে আটক করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট মামলায় তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান। তিনি জানান, ঢাকার সিআইডির একটি বিশেষ দল স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে হরিদাস চন্দ্রকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিআইডির বিশেষ দল পলাশবাড়ীতে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান শেষে হরিদাস চন্দ্র তরনী দাসকে তাদের হেফাজতে নেওয়া হয় এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ার আলম খান বলেন, রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা একটি মানিলন্ডারিং মামলার আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে সিআইডি স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতা চেয়ে অভিযান পরিচালনা করে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও জানান, হরিদাস চন্দ্র দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকায় আলোচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ধর্মীয় বিষয়কে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন সময় সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এসব অভিযোগের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তও হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এটি হরিদাস চন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রথম মামলা নয়। এর আগে ২০২২ সালের ৮ নভেম্বরও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সে সময় অভিযোগ ছিল, তিনি বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা এবং মন্ত্রীর পরিচয় ব্যবহার করে বদলি বাণিজ্য, টেন্ডারে প্রভাব বিস্তার এবং প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় র্যাব তাকে গ্রেপ্তার করেছিল।
পরবর্তীতে ওই মামলায় জামিন পাওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পরে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে ফিরে আবারও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, দেশে ফিরে তিনি ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয়কে সামনে এনে নতুন করে কার্যক্রম শুরু করেন। এ সময় ধর্ম পরিবর্তন করে নিজের নাম ‘তাওহীদ ইসলাম’ রাখেন বলেও জানা গেছে। একই সময়ে সুমি ইসলাম নামে এক নারীকে বিয়ে করেছেন বলেও স্থানীয় সূত্রে তথ্য পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
সাম্প্রতিক সময়ে গাইবান্ধায় ৮১ ফুট উচ্চতার রাম মূর্তি নির্মাণের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে আবারও আলোচনায় আসেন হরিদাস চন্দ্র। ওই প্রকল্প ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরপর থেকেই তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নতুন করে জনদৃষ্টিতে আসে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মানিলন্ডারিং মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে সিআইডি তার আর্থিক লেনদেন, সম্পদের উৎস এবং সম্ভাব্য অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে। তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে হরিদাস চন্দ্রের গ্রেপ্তারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের একটি অংশ মনে করছেন, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।








