স্ত্রীকে ‘কালোজাদু’ করার অভিযোগে শ্বশুরকে হত্যা করেন জামাই

গাজীপুরের কালীগঞ্জে স্ত্রীকে ‘কালোজাদু’ করার অভিযোগ তুলে শ্বশুরকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে জামাই মোজাম্মেল হক ওরফে মুজা সরকারের (৩৫) বিরুদ্ধে। হত্যাকাণ্ডের পর আত্মগোপনে থাকলেও শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে নিজেই কালীগঞ্জ থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
থানায় হাজির হয়ে মোজাম্মেল পুলিশকে বলেন, “স্যার, আমি মোজাম্মেল। আমার বউকে কালোজাদু করছে আমার শ্বশুর। এ কারণে আমার বউ আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। বউয়ের সঙ্গে কথাও বলতে দিত না শ্বশুর। এ রাগেই তাকে কুপিয়ে মেরে ফেলেছি।”
নিহত ব্যক্তির নাম মজিদ মোড়ল (৭০)। তিনি কালীগঞ্জের জামালপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং কলার ব্যবসা করতেন। শুক্রবার বিকেলে জামাই মোজাম্মেলের হামলায় তিনি নিহত হন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে বাড়ি থেকে জামালপুর বাজারের উদ্দেশে বের হন মজিদ মোড়ল। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাজারের ভাঙারিপট্টির একটি গলি দিয়ে মাথায় কলার ছড়া নিয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে তার মাথায় ধারালো কুড়াল দিয়ে আঘাত করেন মোজাম্মেল।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
কুড়ালের আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান মজিদ। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বিজ্ঞাপন
এ ঘটনায় শুক্রবার রাতেই নিহতের ছেলে মো. লিটন মোড়ল (২৬) বাদী হয়ে মোজাম্মেলকে আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।
স্থানীয় সূত্র ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় আট বছর আগে মজিদ মোড়লের মেয়ে শাহানারা (২৮) ও মোজাম্মেলের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন মোজাম্মেল। একই সঙ্গে শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য স্ত্রীকে চাপ দেওয়া হতো। মজিদ মোড়ল কলার ব্যবসা করে সংসার চালাতেন। জামাইয়ের চাহিদা অনুযায়ী সবসময় অর্থ দেওয়া তার পক্ষে সম্ভব ছিল না।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
এ নিয়ে প্রায়ই শাহানারাকে মারধর করা হতো বলে পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন। প্রায় ১৫ দিন আগে শাহানারাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর তিনি বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন এবং স্বামীর সংসারে আর ফিরবেন না বলে জানিয়েছিলেন।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর মোজাম্মেল আত্মগোপনে চলে যান। শনিবার সকাল ১০টার দিকে তিনি নিজেই কালীগঞ্জ থানায় হাজির হন এবং হত্যার দায় স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেন। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেছেন এবং হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।








