কালীগঞ্জে শ্বশুরকে কুপিয়ে হত্যা, ১৮ ঘণ্টা পর জামাতার আত্মসমর্পণ

গাজীপুরের কালীগঞ্জে মজিদ মোড়ল (৭০) নামে এক কলা ব্যবসায়ীকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার জামাতা মোজাম্মেল হক ওরফে মুজা সরকার (৩৫)-এর বিরুদ্ধে। হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর শনিবার সকালে কালীগঞ্জ থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন অভিযুক্ত জামাতা।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার জামালপুর বাজারের ভাঙ্গারি পট্টি এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত মজিদ মোড়ল জামালপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি পেশায় কলা ব্যবসায়ী ছিলেন। অপরদিকে অভিযুক্ত মোজাম্মেল হক একই এলাকার মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়দের দাবি, মোজাম্মেল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং যুবদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৭ বছর আগে মজিদ মোড়লের মেয়ে শাহানারার সঙ্গে মোজাম্মেল হকের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই মোজাম্মেল তার স্ত্রীকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। পাশাপাশি শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য স্ত্রীকে চাপ দেওয়া হতো।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মজিদ মোড়ল কলা ব্যবসা করে সংসার চালাতেন। জামাতার চাহিদা অনুযায়ী নিয়মিত টাকা দিতে না পারায় তার মেয়ে শাহানারাকে প্রায়ই নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে শাহানারাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন মোজাম্মেল। এরপর থেকে তিনি বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে প্রতিদিনের মতো কলার ছড়া নিয়ে জামালপুর বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন মজিদ মোড়ল। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি বাজারের ভাঙ্গারি পট্টির একটি গলিতে ইলিয়াসের দোকানের সামনে পৌঁছান।
এ সময় পেছন থেকে মোজাম্মেল হক তার মাথায় কুড়াল দিয়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন মজিদ মোড়ল।
বিজ্ঞাপন
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর শুক্রবার রাতেই নিহতের ছেলে লিটন মোড়ল বাদী হয়ে মোজাম্মেল হককে আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে রাতভর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ।
তবে অভিযানের মধ্যেই শনিবার সকাল ১০টার দিকে কালীগঞ্জ থানায় নিজে উপস্থিত হন মোজাম্মেল। সেখানে তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
বিজ্ঞাপন
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেছেন। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে জামাতার হাতে শ্বশুর হত্যার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে অন্য কোনো বিষয় জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।








