Logo

রংপুরে চার খুনের রহস্য উদঘাটনের দ্বারপ্রান্তে পুলিশ

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
রংপুর
১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৮:৫৮
রংপুরে চার খুনের রহস্য উদঘাটনের দ্বারপ্রান্তে পুলিশ
ছবি: সংগৃহীত

রংপুর নগরীতে শিক্ষক পরিবারের চার সদস্য হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) তাদের রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের কাছাকাছি পৌঁছেছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে যান রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের তিন সদস্যের একটি দল। দলে ছিলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলী, উপপরিদর্শক মমিনুল ইসলাম এবং আবু সাঈদ বাবলা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন আরপিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তোফায়েল আহমেদ।

বিকেলে আরপিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘আলোচিত ফোর মার্ডার নিয়ে আমরা মেট্রোপলিটন পুলিশ কাজ করে যাচ্ছি। আমরা আশা করি, এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনের দ্বারপ্রান্তে আছি।’

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

তদন্তাধীন বিষয় হওয়ায় বিস্তারিত তথ্য প্রকাশে সীমাবদ্ধতা থাকলেও তিনি জানান, আসামিদের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে এবং এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে তদন্ত শেষ করে মামলাটির নিষ্পত্তি করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

২ দিন ৩ ঘণ্টা করে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ

এর আগে সোমবার (৩১ আগস্ট) সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল পুলিশ। শুনানি শেষে রংপুরের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রফিকুল ইসলাম তাদের দুই দিন, প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

রিমান্ড আবেদনের শুনানির সময় আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়নি। তাদের পক্ষে লিগ্যাল এইডের আইনজীবীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শুনানিতে অংশ নেন।

বিজ্ঞাপন

আরপিএমপির উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, আসামিরা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার পরও তদন্তে বেশ কিছু নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই এবং নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগের পর অধিকতর তদন্তের প্রয়োজন হওয়ায় রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল।

৮০ ঘণ্টায় ৮০ বার ফোনালাপের তথ্য

তদন্তে নতুন যে তথ্য সামনে এসেছে, তার মধ্যে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের যোগাযোগের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। সনাতন চক্রবর্তী জানান, হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে দুই আসামির মধ্যে বহুবার কথা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৮০ ঘণ্টায় তাদের মধ্যে ৮০ বার যোগাযোগ হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে এই যোগাযোগের ধরন অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। এ কারণে হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল কি না, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হচ্ছে।

তবে তদন্তের স্বার্থে ফোনালাপের বিষয়বস্তু বা অন্যান্য তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

ডোপ টেস্টে মাদকের উপস্থিতি মেলেনি

বিজ্ঞাপন

সোমবার পুলিশ জানিয়েছিল, সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টে শরীরে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের ভাষ্য, ঘটনার বেশ কিছু সময় পর পরীক্ষা হওয়ায় এমন ফলাফল আসতে পারে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

পুলিশ একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য ও আলামতও যাচাই করছে।

যেভাবে সামনে আসে চার হত্যার ঘটনা

গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকায় একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

ঘটনার পর একই এলাকার বাসিন্দা মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুই আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।

নতুন তথ্য যাচাই, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার পেছনে কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল কি না, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তদন্তকারী দল।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD