কমলাপুরে ককটেল বিস্ফোরণ : ছাত্রলীগ-যুবলীগের ২ সদস্য গ্রেফতার

রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন রায়হান (৩২) ও মোহাম্মদ সানমুন (২৩)।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ।
পুলিশ জানায়, সাখাওয়াত হোসেন রায়হান নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের শাহজাহানপুর থানা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি বাংলাদেশ রেলওয়ের ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবেও কর্মরত ছিলেন। ২০১৫ সালের এপ্রিল থেকে রেলওয়েতে চাকরি করলেও গত তিন মাস ধরে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন বলে জানানো হয়।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে মোহাম্মদ সানমুন শাহজাহানপুর থানা যুবলীগের সক্রিয় কর্মী বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ডিসি হারুন অর রশিদ বলেন, গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০টা ৩৭ মিনিটে কমলাপুর রেলস্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ২৯ ও ৩০ নম্বর পিলারের মাঝামাঝি স্থানে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। ঘটনার পর রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
তিনি জানান, বিস্ফোরণের পর তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য এবং বিশ্বস্ত সোর্সের মাধ্যমে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা শুরু হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ ও সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার দুজনই ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
বিজ্ঞাপন
ডিসি হারুনের ভাষ্য অনুযায়ী, জনমনে ভীতি সৃষ্টি, লকডাউন সফল করা এবং নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়ার উদ্দেশ্যে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটানো হয়।
ঘটনাটি বাংলাদেশ রেলওয়ের অধিক্ষেত্রের হওয়ায় ঢাকা রেলওয়ে থানায় মামলা করা হয়েছে। ২০ সেপ্টেম্বর মামলাটি রুজু করা হয়।
ডিসি হারুন আরও জানান, গ্রেফতার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তারা অন্য কোনো ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত কি না এবং তাদের সঙ্গে আরও কারা যুক্ত, জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
তিনি বলেন, কোনো একটি ঘটনায় কেউ অর্থায়ন, কেউ সমন্বয়, কেউ ককটেল নিক্ষেপ এবং কেউ ঘটনার ভিডিও ধারণের মতো বিভিন্ন ভূমিকা পালন করতে পারে। এসব বিষয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক নাশকতার ঘটনায় পুলিশের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঢাকা একটি মেগাসিটি। নিয়মিত জনসভা, মিছিল-মিটিং ও বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যদের নানা ধরনের কর্মকাণ্ড মোকাবিলা করতে হচ্ছে পুলিশকে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
গোয়েন্দা ব্যর্থতা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে ডিসি হারুন বলেন, পুলিশের অধিকাংশ কার্যক্রমই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়মিত কার্যক্রমও চলছে এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।








