শিশু সন্তানকে নির্যাতনের ভিডিও প্রবাসী স্বামীকে পাঠালেন স্ত্রী

ফরিদপুরের নগরকান্দায় প্রবাসী স্বামীকে ‘শিক্ষা দেওয়ার’ উদ্দেশ্যে নিজের ১০ বছর বয়সী শিশুকে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। ঘটনার ভিডিও ধারণ করে তিনি স্বামীর কাছে পাঠিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। ভিডিওটি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ওই নারীকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
অভিযুক্ত নারীর নাম বিথী আক্তার (৩৪)। তিনি উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামের আব্বাস শেখের স্ত্রী। নির্যাতনের শিকার শিশুটি স্থানীয় রাধানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং দুই ভাইয়ের মধ্যে বড়।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে ৫৯ সেকেন্ডের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে সেটি দ্রুত বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে যায়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ভিডিওতে দেখা যায়, টিনের ঘরের ভেতর এক নারী তার শিশুসন্তানকে নিয়ে ভিডিও ধারণ করছেন। একপর্যায়ে ঘরের আড়ায় ঝোলানো ওড়নার ফাঁসে শিশুটির গলা পেঁচানোর চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় শিশুটিকে গালাগাল করতেও দেখা যায়। ভিডিওর একপর্যায়ে শিশুটি মাকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করে। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটির বাবা আব্বাস শেখ দীর্ঘদিন ধরে জীবিকার প্রয়োজনে বিদেশে অবস্থান করছেন। বর্তমানে তিনি মালদ্বীপে কর্মরত। গত কয়েক মাস ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধ ও ভুল বোঝাবুঝি চলছিল।
বিজ্ঞাপন
এ নিয়ে গত কয়েক দিন ধরে মুঠোফোনে তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হচ্ছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
রামনগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, বিথী আক্তার স্বামীকে জানিয়েছিলেন যে তিনি আর সংসার করবেন না এবং সন্তানদের মারধর করবেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর তার ধারণা, স্বামীকে ‘শিক্ষা দেওয়ার’ উদ্দেশ্যেই শিশুটিকে নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে পাঠানো হয়ে থাকতে পারে।
নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম রসুল সামদানি আজাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শিশুটির ফুপু রনি বেগম বাদী হয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শিশুটির মাকে একমাত্র আসামি করে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর ওই নারীকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ওসি বলেন, অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








