Logo

নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস চক্রে সরকারি দপ্তরের কর্মচারীরা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১৮:১৬
নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস চক্রে সরকারি দপ্তরের কর্মচারীরা
ছবি: সংগৃহীত

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত ব্যক্তিসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। অভিযানে প্রশ্নপত্রের একটি সেট, বিভিন্ন পরীক্ষার প্রবেশপত্র, সনদপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র, আটটি মোবাইল ফোন এবং বিভিন্ন ব্যাংকের চেকের ৪৮ পাতা জব্দ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টায় এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।

তিনি জানান, গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের ২৪২টি শূন্যপদে নিয়োগের বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এতে আবেদন করেছিলেন ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী। পরীক্ষা সকাল ১১টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ওই দিন সকাল ১০টা ৩ মিনিটে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পরীক্ষা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ঘটনার পর ছায়া তদন্ত শুরু করে এসআরবি। গোয়েন্দা অনুসন্ধান ও অভিযান চালিয়ে ১৪ থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় ১১ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মতিঝিল থানায় মামলা করা হয়েছিল।

যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে

বিজ্ঞাপন

এসআরবির তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. রুবেল ইসলাম (৩৩), চাকরিপ্রত্যাশী মো. মফিজুল ইসলাম (২৩), মো. হাসিনুর রহমান সুজন (৩২), জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম (৩৫), প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলাম (৩৩), এনবিআরের অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ (৩০) এবং একই প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীর (৩৮)।

সংস্থাটি জানায়, ১৪ অক্টোবর মতিঝিল এলাকা থেকে রুবেল, মফিজুল ও সুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্য এবং মোবাইল ফোনের কথোপকথন পর্যালোচনা করে উত্তরখান ও মিরপুর-১০ এলাকা থেকে ইমদাদুল ও আসাদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৫ অক্টোবর সাভার থেকে নূর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-৪। সর্বশেষ ১৬ অক্টোবর মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় জাহাঙ্গীরকে।

যেভাবে প্রশ্ন ফাঁসের তথ্য পেয়েছে এসআরবি

বিজ্ঞাপন

এসআরবি-৩-এর অধিনায়কের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক তদন্তে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ, উত্তর তৈরি এবং পরীক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন ও উত্তর বিতরণের সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের তথ্য পাওয়া গেছে। চক্রটির সদস্যরা হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে এসব কর্মকাণ্ড চালাতেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনের চ্যাট পর্যালোচনা করে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সময় ও বিতরণপ্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁর দাবি, নূর মোহাম্মদ গত ১০ অক্টোবর ভোর ৪টা ৪৩ মিনিটের দিকে একটি সূত্র থেকে প্রশ্নপত্রের অস্পষ্ট ছবি পান। পরে সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে জাহাঙ্গীর তাঁকে প্রশ্নপত্রের একটি স্পষ্ট ছবি পাঠান।

প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নূর মোহাম্মদ প্রশ্নগুলোর উত্তর তৈরি করে জাহাঙ্গীর ও ইমদাদুলকে পাঠান। পরে চক্রের অন্য সদস্যদের মাধ্যমে প্রশ্ন ও উত্তর বিভিন্ন পরীক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। এ প্রক্রিয়ায় রুবেল, মফিজুল, সুজন ও আসাদুলের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে এসআরবি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

আর্থিক লেনদেনের তথ্যও পেয়েছে সংস্থাটি

বিজ্ঞাপন

এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক বলেন, প্রাথমিক তদন্তে রুবেল ইসলাম ও মফিজুল ইসলামের মাধ্যমে চক্রটির আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। মফিজুল নিজেও একজন চাকরিপ্রার্থী। এসআরবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি চক্রের একজন সদস্যকে ১৭ লাখ টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছিলেন। পরে বেশি অর্থ উপার্জনের আশায় তিনি চক্রটির সঙ্গে যুক্ত হন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। ভর্তি-বাণিজ্যসংক্রান্ত অর্থ লেনদেনের সময় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

অভিযানে যা যা জব্দ হয়েছে

এসআরবির তালিকা অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১০০ টাকার ১১৬টি স্ট্যাম্প, ৫০ টাকার চারটি স্ট্যাম্প, প্রশ্নপত্রের একটি সেট, বিভিন্ন পরীক্ষার প্রবেশপত্রের ১৯ পাতা, ১০টি সনদপত্র, বিভিন্ন ব্যাংকের চেকের ৪৮ পাতা, একটি ব্যাংক চেক, আরও ১৫টি বিভিন্ন ধরনের সনদপত্র, ছয়টি জাতীয় পরিচয়পত্র, আটটি মোবাইল ফোন এবং চার হাজার টাকা নগদ জব্দ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এসআরবি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের উৎস, চক্রের অন্য সহযোগীদের পরিচয় এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD