১০৭ বস্তা সরকারি চাল উত্তোলন করলেন মৃত চেয়ারম্যান, তদন্তে দুদক

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা খাদ্যগুদামে সরকারি চাল বিতরণ ও সংরক্ষণে অনিয়মের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযানে প্রায় দেড় বছর আগে মারা যাওয়া ফিলিপনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নইমুদ্দিন সেন্টুর নামে ১০৭ বস্তা সরকারি চাল উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে দুদকের কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বুলবুল আহমেদের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় খাদ্যগুদামের নথিপত্র যাচাই করে বেশ কয়েকটি অসংগতি শনাক্ত করেন দুদকের কর্মকর্তারা।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
দুদক সূত্র জানায়, সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় খাদ্যশস্য বিতরণ ও মজুতের হিসাব পরীক্ষা করতে গিয়ে মৃত সাবেক চেয়ারম্যানের নামে চাল গ্রহণের তথ্য সামনে আসে। নথি অনুযায়ী, ফিলিপনগর ইউনিয়নের দুস্থ নারীদের জন্য বরাদ্দ করা ১০৭ বস্তা চাল, যার পরিমাণ ৩ দশমিক ২১০ মেট্রিক টন, গত ১৩ অক্টোবর নইমুদ্দিন সেন্টুর নামে উত্তোলন করা হয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট সাবেক চেয়ারম্যান প্রায় দেড় বছর আগেই মারা গেছেন। তার মৃত্যুর পরও কীভাবে তার নামে চাল গ্রহণের তথ্য নথিভুক্ত হলো, কারা ওই চাল বাস্তবে সংগ্রহ করেছেন এবং সেগুলো কোথায় সরবরাহ করা হয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে দুদক।
বিজ্ঞাপন
অভিযানের বিষয়ে সহকারী পরিচালক বুলবুল আহমেদ বলেন, ‘দুপুরে দৌলতপুর খাদ্যগুদামে আমরা অভিযান চালাই। অভিযানকালে খাদ্যগুদামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তদন্ত করা হয়। এসময় বেশ কিছু নথিপত্রে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত থাকবে।’
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এর আগে দৌলতপুর উপজেলা খাদ্যগুদামে সরকারি চাল বিতরণ ও সংরক্ষণে অনিয়ম এবং চাল চুরির অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসার পর মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে এক আদেশে ভারপ্রাপ্ত খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা সেলিম রেজাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়।
কুষ্টিয়া জেলা খাদ্য কর্মকর্তা আল ওয়াজিউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে সেলিম রেজাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








