Logo

স্ত্রীর মামলায় গ্রেপ্তার স্বামী, ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
শেরপুর, বগুড়া
৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১৩:৫১
স্ত্রীর মামলায় গ্রেপ্তার স্বামী, ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার
ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ার শেরপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে মামলা গ্রহণে বিলম্ব এবং তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠলেও তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট উপপরিদর্শক (এসআই) শাহাদত হোসেন।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (৪ নভেম্বর) তাঁকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরাম হোসাইন।

ভুক্তভোগী গৃহবধূর অভিযোগ, যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও মামলা গ্রহণে বিলম্ব করা হয়। এ সময় তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযুক্ত পক্ষের সঙ্গে দেনদরবার করে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি। তবে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা এসব অভিযোগকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্র ও এজাহার অনুযায়ী, গত ২৩ অক্টোবর শেরপুর উপজেলার গারিদহ ইউনিয়নের হাপুনিয়া কলোনি মধ্যপাড়া এলাকায় নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মর্জিনা খাতুন (৩২) ২৫ অক্টোবর তাঁর স্বামী রেজাউল করিমকে প্রধান আসামি করে মোট সাতজনের বিরুদ্ধে শেরপুর থানায় লিখিত এজাহার দেন।

বিজ্ঞাপন

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মাইক্রোবাস কেনার কথা বলে স্ত্রী মর্জিনা খাতুনের কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন রেজাউল করিম। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে এবং গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এজাহার জমা দেওয়ার পর মামলা গ্রহণে বিলম্বের বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন ভুক্তভোগী। একই সঙ্গে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শাহাদত হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযুক্ত পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি। তবে সাংবাদিকরা সরাসরি মর্জিনা খাতুনের বক্তব্য জানতে চাইলে তাঁর প্রতিনিধির মাধ্যমে জানানো হয়, অসুস্থতার কারণে তিনি কথা বলতে পারছেন না।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এসআই শাহাদত হোসেন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি ঘটনাস্থলে তদন্তে গিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে ঢাকায় ব্যক্তিগত কাজে থাকায় কয়েক দিন থানার বাইরে ছিলেন। বাদী অসুস্থ থাকায় তাঁর প্রতিনিধির সঙ্গে কথা হয়েছে। অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে সেটি তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। পরে তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এসআই শাহাদত হোসেন আরও জানান, বিবাদীর সঙ্গে তাঁর কোনো কথা হয়নি। এমনকি তাঁকে গ্রেপ্তারের আগেও কখনো দেখেননি। তাঁর ভাষ্য, নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এ ছাড়া কোনো সাংবাদিকের সঙ্গেও এ বিষয়ে তাঁর কথা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

মামলা গ্রহণের আইনি প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধি ও পুলিশ প্রবিধান অনুযায়ী একজন উপপরিদর্শক নিজ ক্ষমতাবলে কোনো অভিযোগকে নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করতে পারেন না। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার।

বিজ্ঞাপন

শেরপুর থানার ওসি একরাম হোসাইন বলেন, গৃহবধূকে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং বুধবার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগকে তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।

এদিকে, যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগ, মামলা গ্রহণে বিলম্ব এবং তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রধান আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে কোনো স্বাধীন তদন্তের ফলাফল এখনো জানা যায়নি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD