Logo

নির্বাচনী মাঠে অনড় বিএনপির ৯২ বিদ্রোহী প্রার্থী, জামায়াতের ১

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৫০
নির্বাচনী মাঠে অনড় বিএনপির ৯২ বিদ্রোহী প্রার্থী, জামায়াতের ১
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হলেও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের বড় অংশ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াননি। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বহিষ্কার ও সতর্কবার্তার পরও অন্তত ৭৯টি আসনে বিএনপির ৯২ জন বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী ভোটের মাঠে থেকে গেছেন। এতে নির্বাচনে বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিজ্ঞাপন

বিএনপির পাশাপাশি তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীরও একজন বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনে রয়েছেন। তিনি হলেন ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক জসিম উদ্দিন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হওয়ায় তাকে গত ২৯ ডিসেম্বর দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ছিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। শুরুতে বিএনপির অন্তত ১১৭টি আসনে প্রায় ১৯০ জন নেতা বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। পরবর্তী সময়ে যাচাই-বাছাইয়ে কয়েকজনের মনোনয়ন বাতিল হয় এবং কেউ কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। এ ছাড়া দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ১০ জন নেতাকে বিএনপির সব পর্যায়ের পদ-পদবি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ৩০০ আসনের বিপরীতে এবার মোট ২ হাজার ৫৮২টি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। যদিও মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হয়েছে, তবে নতুন তফসিল অনুযায়ী পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকাতেই তিনটি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। ঢাকা-৭ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হামিদুর রহমানের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলীয় আরেক নেতা ইসহাক সরকার। ঢাকা-১২ আসনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হকের বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন বিএনপি নেতা সাইফুল আলম নীরব।

ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলির বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক সাজু। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় তাকে ইতোমধ্যে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অন্যান্য জেলার চিত্রও প্রায় একই। পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা হাসান মামুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন, যদিও এ আসনে দলটি শরিক গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে সমর্থন দিয়েছে। ঝিনাইদহ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজকে প্রার্থী হওয়ায় দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এখানে বিএনপি সমর্থন দিয়েছে গণ অধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খাঁনকে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক রুমিন ফারহানা প্রার্থী হয়েছেন। ওই আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব জুনায়েদ আল হাবীব। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হওয়ায় রুমিন ফারহানাকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

যশোর-৫ আসনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহীদ মো. ইকবাল হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। সেখানে জোট প্রার্থী হিসেবে আছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাছ।

একইভাবে সিলেট-৫, নারায়ণগঞ্জ-৪সহ বিভিন্ন আসনে বিএনপির একাধিক নেতা দলীয় মনোনীত বা জোট প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নির্বাচন করছেন, যাদের অনেককেই ইতোমধ্যে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এদিকে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে সৈয়দ এহসানুল হুদা প্রার্থী হলেও একই আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবালও প্রার্থী হয়েছেন। অন্যদিকে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাকে একটি আসন ছাড়ার কথা থাকলেও তিনি ঢাকা-১৮ ও বগুড়া-২—দুটি আসন থেকেই নির্বাচনে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

সব মিলিয়ে, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থীদের নির্বাচনে থাকার বিষয়টি বিএনপির জন্য বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনের মাঠে এই বিদ্রোহীদের উপস্থিতি ভোটের হিসাব-নিকাশে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা।

জেবি/এএস
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD