নির্বাচনের আগেই একটি দল মুসলমানদের শিরক করাচ্ছে: তারেক রহমান

ক্ষমতায় গেলে দেশের প্রতিটি মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের আলিয়া মাদরাসা মাঠে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রথম নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, দুনিয়ার সবকিছুর একমাত্র মালিক আল্লাহ তাআলা। বেহেশত ও দোজখের মালিকও তিনি। অথচ একটি রাজনৈতিক দল ভোটের বিনিময়ে বেহেশতের টিকিট দেওয়ার কথা বলছে। নির্বাচনের আগেই তারা মানুষকে ঠকাচ্ছে। আমরা যারা মুসলমান, তাদেরকে শিরক করাচ্ছে।
জনসভায় বিপুল জনসমাগমের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, আজ এই মাঠে লাখ লাখ মানুষ একত্রিত হয়েছেন। এই পরিবেশ ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে বহু মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে। গত ১৫ বছরে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী গুম, খুন ও মামলার শিকার হয়েছেন। ইলিয়াস আলী গুম হয়েছেন, জুনাইদ ও দিনারকে হারাতে হয়েছে। লাখ লাখ নেতাকর্মী নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
তারেক রহমান অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে উন্নয়নের নামে দেশবাসী শুধু লুটপাট দেখেছে। মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিদেশে পাচার করা হয়েছে।
উদাহরণ টেনে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ২০০৫ সালে বন্যার সময় তিনি সুনামগঞ্জে গিয়েছিলেন, তখন সেখানে পৌঁছাতে সময় লেগেছিল মাত্র পাঁচ ঘণ্টা। এখন সেই পথ পাড়ি দিতে দশ ঘণ্টা লাগে। এই সময় লাগে না লন্ডন যেতে। তথাকথিত উন্নয়নের নামে জনগণকে শুধু ভোগান্তি দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সাজানো নির্বাচন দিয়ে শুধু ভোটের অধিকার নয়, কথা বলার স্বাধীনতাও কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ প্রতীক বিজয়ী হলে স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশে আবার গণতন্ত্রের পথচলা শুরু হবে। বিএনপি দেশের বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন করতে চায় বলেও জানান তিনি।
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর মাধ্যমে তাদের পাশে দাঁড়ানো হবে বলে জানান তারেক রহমান। পাশাপাশি ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি পরিবারে নারী-পুরুষ সবাইকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
বেকারত্ব দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, যারা এখন বেকার, তাদের আর বেকার থাকতে দেওয়া হবে না। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে তাদের উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত করা হবে।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছিল। সেই উদ্যোগ আবার চালু করা হবে। এতে কৃষকরা যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি উজান থেকে পানি ছেড়ে দিলেও বন্যার ঝুঁকি কমবে।
বক্তব্যের শেষাংশে স্লোগান তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, করবো কাজ, গড়বো দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ। বিএনপির রাজনীতি দিল্লি কিংবা অন্য কোনো দেশের নয়, সবার আগে বাংলাদেশকে প্রাধান্য দেয়।








