আমরা কারও রক্তচক্ষুকে ভয় করি না, ভয় করি শুধু আল্লাহকে: জামায়াত আমির

সরকার গঠনের সুযোগ পেলে উত্তরাঞ্চলের মৃতপ্রায় নদীগুলো পুনরুদ্ধারে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, নদীর প্রাণ ফিরলে উত্তরবঙ্গের কৃষি ও অর্থনীতিতেও নতুন গতি আসবে।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১০ দলীয় ঐক্যজোট আয়োজিত নির্বাচনী প্রচারণা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তিক শক্তিশালী অঞ্চলে রূপান্তর করাই তাদের লক্ষ্য। এখানকার মানুষ কঠোর পরিশ্রম করে সাদামাটা জীবনযাপন করতে অভ্যস্ত। তাদের বিলাসিতা নয়, প্রয়োজন কাজের সুযোগ ও ন্যায্য প্রাপ্য। কৃষি, সেচ ও নদীকেন্দ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারলেই এই অঞ্চলের চিত্র বদলে যাবে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে উত্তরাঞ্চলের অনেক নদী নাব্যতা হারিয়ে মৃতপ্রায় অবস্থায় আছে। ফলে কৃষি উৎপাদন ও জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এসব নদী খনন ও পুনরুজ্জীবনের মাধ্যমে এলাকাবাসীর জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব। সরকার গঠন করতে পারলে এ বিষয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করা হবে।
রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, আমরা কারও রক্তচক্ষুকে ভয় করি না, ভয় করি শুধু আল্লাহকে। দেশের ওপর কোনো ধরনের আধিপত্যবাদের ছায়া দেখতে চাই না।
তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বন্ধুত্বপূর্ণ নীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বিশ্বের সব সভ্য দেশের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে চায় দলটি। প্রতিবেশীদের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে চলার পক্ষেও তিনি মত দেন। একই সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার প্রশ্নে আপস না করার কথাও জানান।
বিজ্ঞাপন
সমাবেশে উপস্থিত ভোটারদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনে ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তনের জোয়ার তুলতে হবে, যাতে পুরনো ও অকার্যকর ব্যবস্থার অবসান ঘটে।
সমাবেশের শেষদিকে ১০ দলীয় জোটের সমন্বয়কদের পক্ষ থেকে গাইবান্ধার পাঁচটি আসনের প্রার্থীদের হাতে নির্বাচনী প্রতীক তুলে দেওয়া হয়। নেতাকর্মীদের বিজয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মাঠে থেকে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরবঙ্গকেন্দ্রিক উন্নয়ন, কৃষি ও নদী পুনরুদ্ধার ইস্যুকে সামনে এনে জামায়াত এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় স্থানীয় জনজীবনের সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব দিতে চাইছে।








