আমরা চাঁদাবাজদের হাতেও সম্মানের কাজ তুলে দেব: জামায়াত আমির

সমাজ থেকে চাঁদাবাজি নির্মূলের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের পুনর্বাসনের মাধ্যমে সম্মানজনক জীবনে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বিজ্ঞাপন
চাঁদাবাজদের উদ্দেশে সরাসরি বার্তা দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, চাঁদাবাজ, তুমি ভয় পেয়ো না। তোমার হাতেও আমরা সম্মানের কাজ তুলে দেব। সমাজে তোমাকে আর মুখ ঢেকে চলতে হবে না। কেউ তোমার মা-বাবাকে চাঁদাবাজের মা-বাবা বলবে না, স্ত্রীকে কেউ চাঁদাবাজের স্ত্রী বলবে না। সম্মানের সঙ্গে সমাজে বসবাস করতে পারবে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১০-দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, কৃষকরা উৎপাদনের সঠিক দাম পান না মূলত দুই কারণে—মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি। তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে এসব অনিয়ম কঠোরভাবে বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজির কারণে কৃষকের লাভ কমে যাচ্ছে। আমরা এই অপসংস্কৃতি বন্ধ করব।
উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে নদী পুনরুজ্জীবনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এ অঞ্চলের বহু নদী নাব্যতা হারিয়ে মৃতপ্রায় হয়ে গেছে। সুযোগ পেলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নদীগুলোকে পুনরুদ্ধার করা হবে। এতে কৃষি ও জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন, নদীর জীবন ফিরলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনও বদলে যাবে।
বিজ্ঞাপন
সমাবেশে তিনি জনগণের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর কথাও তুলে ধরেন। একই সঙ্গে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, এই দেশ, এই মাটির প্রতি আমাদের ভালোবাসা আছে বলেই আমরা সংগ্রাম করছি। সুযোগ পেলে জনগণকে সঙ্গে নিয়েই এগোতে চাই।
পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশে কোনো ধরনের আধিপত্যবাদ বা বাইরের প্রভাব দেখতে চান না। তবে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, আমরা কারও ওপর প্রভাব খাটাতে চাই না, আবার কেউ যেন আমাদের ওপরও প্রভাব বিস্তার করতে না পারে।
আসন্ন ভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণভোট ও সাধারণ নির্বাচন—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। গণভোটে ইতিবাচক ফল এলে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ সুগম হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এজন্য ভোটারদের ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশ শেষে গাইবান্ধার পাঁচটি সংসদীয় আসনে ১০-দলীয় জোটের প্রার্থীদের হাতে নির্বাচনী প্রতীক তুলে দেন ডা. শফিকুর রহমান। উল্লেখ্য, এসব আসনে জোটের পক্ষ থেকে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বিজ্ঞাপন
প্রতীক তুলে দিয়ে তিনি বলেন, এই প্রার্থীরা আপনাদের আমানত। তাদের বিজয় নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
জামায়াতের নির্বাচনী প্রচারণা কর্মসূচি ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় শুরু হয়েছে। উত্তরাঞ্চলের একাধিক জেলায় ধারাবাহিক জনসভা ও সমাবেশের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নিজেদের পরিকল্পনা তুলে ধরছে দলটি।








