Logo

আ.লীগের আমলেও জাতীয়তাবাদী আদর্শে অটল ছিলাম: ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ মে, ২০২৬, ১৮:১৬
আ.লীগের আমলেও জাতীয়তাবাদী আদর্শে অটল ছিলাম: ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি
ছবি: সংগৃহীত

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দীর্ঘ ১৮ বছরের চাকরি জীবনে নানা বঞ্চনা, অপমান ও মানসিক নির্যাতনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জাতীয়তাবাদী আদর্শ থেকে কখনও সরে যাননি বলে দাবি করেছেন রেজাউল করিম মল্লিক। তিনি জানান, প্রতিকূল সময়েও নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাস ও আদর্শের প্রতি অবিচল ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১১ মে) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগঘন এসব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্রসচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির-সহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বিজ্ঞাপন

বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে রেজাউল করিম মল্লিক জানান, প্রায় ২৯ বছরের চাকরি জীবনে এই প্রথম প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আসার সুযোগ পেয়ে তিনি গর্বিত। দীর্ঘদিনের কষ্ট, অপেক্ষা ও বঞ্চনার পর এই মুহূর্তকে নিজের জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ডিআইজি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। সে কারণেই চাকরিতে যোগদানের মাত্র ১৭ মাসের মাথায় ১৯৯৮ সালে তৎকালীন সরকার তার ব্যাচের অন্যদের বাদ দিয়ে শুধু তাকেই চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয় বলে দাবি করেন তিনি। এরপর দীর্ঘ সাড়ে চার বছর তাকে মানসিক কষ্ট ও সামাজিক অপমান সহ্য করতে হয়েছে বলেও জানান।

তিনি বলেন, ওই সময় আত্মীয়স্বজন, সমাজ এমনকি পরিবারের কাছেও নিজেকে অসহায় মনে হতো। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরাসরি হস্তক্ষেপে আমি চাকরি ফিরে পাই।

বিজ্ঞাপন

নিজের শৈশব স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় শিবচরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে ধানের শীষের মালা পরিয়ে বরণ করার সুযোগ হয়েছিল তার। সেই ঘটনাকে তিনি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেন।

তিনি আরও জানান, ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সালের মধ্যে কয়েকবার জিয়াউর রহমানের সান্নিধ্যে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল তার। সর্বশেষ ১৯৮১ সালের ২৫ জানুয়ারি আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত জুনিয়র ক্যাডেট কোর ক্যাম্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে শহীদ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা হয়েছিল। অনুষ্ঠান শেষে করমর্দন করে তাকে গাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দেওয়ার স্মৃতিও তুলে ধরেন তিনি।

রেজাউল করিম বলেন, সেই অনুভূতি ছিল যেন বিশ্বজয়ের সমান। কিন্তু কয়েক মাস পর ৩০ মে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুসংবাদ শুনে নিজেকে সামলাতে পারিনি, কান্নায় ভেঙে পড়েছিলাম।

বিজ্ঞাপন

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি জিয়াউর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং খালেদা জিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। কঠিন সময়ে খালেদা জিয়ার একটি আশ্বাস ও স্নেহমাখা বাক্য তাকে নতুন করে সাহস জুগিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ডিআইজি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ নতুন প্রত্যাশার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তার নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী শক্তি পুনরায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছে এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নতুন গতি এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

বক্তব্যের শেষদিকে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে রেজাউল করিম মল্লিক জানান, দীর্ঘদিনের জমে থাকা অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ পেয়ে তিনি কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে নিজের ভুলত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার আহ্বানও জানান তিনি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD