Logo

৮ লাখ ৫২ হাজার ১৫৭ কোটি টাকার ছায়া বাজেট ঘোষণা করলো এনসিপি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ জুন, ২০২৬, ১৮:৫৭
৮ লাখ ৫২ হাজার ১৫৭ কোটি টাকার ছায়া বাজেট ঘোষণা করলো এনসিপি
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৮ লাখ ৫২ হাজার ১৫৭ কোটি টাকার ছায়া বাজেট ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি। ‘বাংলাদেশ ২.০: সংস্কার, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধি’ শীর্ষক এই বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ছায়া বাজেট উপস্থাপন করেন দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। এ সময় কেন্দ্রীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

দলটির প্রস্তাবিত বাজেটের আকার চলতি অর্থবছরের তুলনায় ৬২ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা বেশি। একই সঙ্গে বাজেট ঘাটতি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ০৯ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি বর্তমানে ৯ দশমিক ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে প্রথম ধাপে ৮ শতাংশ এবং পরবর্তী অর্থবছরে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রাজস্ব আহরণ বাড়াতে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ৬ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়েছে দলটি। এ লক্ষ্যে বিদ্যুৎ সংযোগের সঙ্গে আয়কর রিটার্ন বাধ্যতামূলক করা, টিআইএন, জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংকিং ও মোবাইল আর্থিক সেবা সংযুক্তিকরণ, সম্পদ কর চালু, বন্দর ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন এবং বিভিন্ন কর অব্যাহতি পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এসব উদ্যোগ থেকে অতিরিক্ত ৭৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের আশা করছে দলটি।

কর ব্যবস্থায়ও বেশ কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সাধারণ করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা করার পাশাপাশি নারী ও প্রবীণদের জন্য ৪ লাখ ৭৫ হাজার এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ৫ লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া জাকাতকে আয়কর রিবেট হিসেবে স্বীকৃতি, উত্তরাধিকার কর চালু এবং করপোরেট করের হার ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষা ও কর্মসংস্থান খাতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এই বাজেটে। শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে ১ লাখ ২৪ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি, ৫ হাজার কোটি টাকার শিক্ষক উন্নয়ন তহবিল এবং ৫ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ২৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৫২ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। জাতীয় স্বাস্থ্যবিমা চালু, জটিল রোগের চিকিৎসায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি, ময়মনসিংহ ও বরিশালে আন্তর্জাতিক মানের সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল এবং ৫০০ নতুন জিপিএস-সুবিধাসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্স চালুর পরিকল্পনা বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কৃষি খাতে আধুনিক শস্য বিক্রয় কেন্দ্র স্থাপন, কৃষকের ব্যাংক হিসাবেই সরাসরি ভর্তুকি প্রদান এবং খাদ্য সংরক্ষণ অবকাঠামো সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো অব্যাহত রাখার কথাও বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জ্বালানি ও পরিবেশ খাতে ‘সোলার এনার্জি সোভারেনটি অ্যাক্ট’ প্রণয়নের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর আওতায় সৌরবিদ্যুৎ পণ্যের ওপর আগামী পাঁচ বছর শূন্য শতাংশ কর আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া ৬ হাজার কোটি টাকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি কর্মসূচির মাধ্যমে এক বছরে ২ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, ৩ হাজার অফ-গ্রিড গ্রামে সৌর মিনি-গ্রিড স্থাপন এবং ৫০ হাজার ডিজেলচালিত সেচপাম্পকে সৌরশক্তিতে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।

নারী ও যুব উন্নয়নে ৫ হাজার কোটি টাকার নারী উদ্যোক্তা তহবিল, স্যানিটারি ন্যাপকিনে ভ্যাট প্রত্যাহার, ছয় মাসের বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং এক মাসের পিতৃত্বকালীন ছুটির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও পুরোহিতদের সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় আনার সুপারিশও করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ব্যাংকিং খাতে সংস্কারের জন্য খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, রাষ্ট্রীয় ‘ব্যাড ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠা, সব তফসিলি ব্যাংকের প্রকৃত আর্থিক অবস্থার প্রতিবেদন প্রকাশ এবং পুঁজিবাজারের আকার জিডিপির ৪০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, দেশীয় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির উন্নয়ন, সরকারি ব্যয়ের রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, গোপন সম্পদের ওপর বিশেষ কর এবং স্বাধীন বাজেট অফিস গঠনের প্রস্তাবও ছায়া বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে দলটির নেতারা বলেন, ৭১ দফা সংস্কার প্রস্তাবভিত্তিক এই ছায়া বাজেট কেবল বিকল্প অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নয়; বরং দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন এবং বিনিয়োগবান্ধব রাষ্ট্র গঠনের একটি সমন্বিত রূপরেখা।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD