Logo

জমি দখল-চাঁদাবাজির অভিযোগে এনসিপি নেতা কাফির বিরুদ্ধে মামলা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ জুলাই, ২০২৬, ২০:৫৯
জমি দখল-চাঁদাবাজির অভিযোগে এনসিপি নেতা কাফির বিরুদ্ধে মামলা
ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নুরুজ্জামান কাফি, তার বাবা এবং বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (১৯ জুলাই) খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।

অভিযোগটি আমলে নিয়ে আদালত কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার অন্য দুই আসামি হলেন কাফির বাবা এ বি এম হাবিবুর রহমান এবং বড় ভাই মামুন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১১ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অভিযুক্তরা একটি এক্সকাভেটর, ভ্যান ও খোয়া নিয়ে বিদ্যালয়ের রজপাড়া মৌজার বিএস খতিয়ান নং-১২-এর ৫৯ নম্বর দাগভুক্ত জমিতে প্রবেশ করেন। পরে সেখানে মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অন্যান্য শিক্ষকদের নিয়ে বাধা দিলে তাদের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা বিদ্যালয়ের প্রায় ৬ শতাংশ জমি থেকে আনুমানিক এক লাখ টাকার মাটি কেটে সরিয়ে নেন এবং সেখানে খোয়া ফেলে রাস্তা নির্মাণ করেন। এতে বিদ্যালয়ের প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

বাদী আব্দুর রহিম জানান, রজপাড়া মৌজার একাধিক বিএস দাগে মোট ২১ দশমিক ৭৬ একর জমির মালিক খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টি সরকারি খাসজমিসহ নির্ধারিত সীমানার জমি ভোগদখল করে আসছে। তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তরা তাতে সাড়া দেননি। পরে থানায় গেলে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন এবং বিদ্যালয়ের জমি রক্ষায় ন্যায়বিচার দাবি করেন।

বিজ্ঞাপন

তবে নুরুজ্জামান কাফি তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট জমির প্রকৃত উত্তরাধিকারীরা সুপ্রিম কোর্টের রায় পাওয়ার পর তাদের কাছ থেকে তিনি বায়নামার মাধ্যমে জমি কিনেছেন। জমির মালিকরা বুঝিয়ে দেওয়ার পর সেখানে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

কাফির ভাষ্য, প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে তার কখনও সরাসরি সাক্ষাৎ হয়নি। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে বলেও তিনি দাবি করেন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD