Logo

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষে বিএনপি ও মন্ত্রিসভায় বড় রদবদলের আভাস

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ আগস্ট, ২০২৬, ২০:৪৫
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষে বিএনপি ও মন্ত্রিসভায় বড় রদবদলের আভাস
ছবি: সংগৃহীত

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো এবং সরকারের মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হলে তার বর্তমান দলীয় ও সরকারি দায়িত্বে কারা আসবেন, তা নিয়েই মূলত এসব আলোচনা চলছে।

বিজ্ঞাপন

দলীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষ হওয়ার পর বিএনপির সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি দৃশ্যমান হতে পারে। একই সময় সরকারের কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে সীমিত আকারে দায়িত্ব পুনর্বণ্টনও হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপরই নির্ভর করছে।

রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করার আলোচনা

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে বিএনপির মহাসচিব পদটি শূন্য হবে। এ অবস্থায় সাময়িকভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভীর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

দলীয় একটি সূত্রের দাবি, ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষ হওয়ার পর রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম, কেন্দ্রীয় কার্যালয় পরিচালনা, রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।

তবে স্থায়ীভাবে বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব কে হবেন, তা নিয়ে আলোচনা আরও বিস্তৃত। স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। দল পুনর্গঠনের পর কাউন্সিলের মাধ্যমে স্থায়ী সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে দলীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে।

রিজভীকে স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে তিনি জানিয়েছেন, বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাদের নতুন দায়িত্ব দিয়েছেন। দলের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা

মহাসচিব পদে সম্ভাব্য পরিবর্তনের পাশাপাশি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদ নিয়েও বিএনপির ভেতরে আলোচনা চলছে। এ ক্ষেত্রে হাবিব উন নবী খান সোহেল ও আব্দুস সালাম আজাদের নাম আলোচনায় রয়েছে।

দপ্তর সম্পাদক পদেও নতুন মুখ আনার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। সম্ভাব্যদের তালিকায় সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, রকিবুল ইসলাম বকুল, আজিজুল বারী হেলাল, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, মুনির হোসেন, আবদুল লতিফ জনি এবং এবিএম মোশাররফ হোসেনের নাম রয়েছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে বদলের আলোচনা

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে তার হাতে থাকা স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নতুন করে বণ্টন করতে হবে। ফলে মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য পরিবর্তনের আলোচনায় এ মন্ত্রণালয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন আসতে পারে। সরকারের প্রথম ছয় মাসের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করে আরও কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতির শপথের আগে বড় ধরনের মন্ত্রিসভা পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে সালাহউদ্দিন আহমদের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। তিনি বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। তাকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে আনা হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নতুন কোনো অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতাকে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্ভাব্য নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির নাম আলোচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম বকুলের নামও শোনা যাচ্ছে।

শিক্ষা-স্বাস্থ্যসহ অন্য মন্ত্রণালয়েও পরিবর্তনের গুঞ্জন

বিজ্ঞাপন

সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা পুনর্বিন্যাসের আলোচনায় স্থানীয় সরকার ও স্বরাষ্ট্রের পাশাপাশি পররাষ্ট্র, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নামও রয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার নাম আলোচনায় রয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়েও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। এ ক্ষেত্রে বর্তমান প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিতকে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনার কথা রাজনৈতিক মহলে শোনা যাচ্ছে।

এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান, জয়নুল আবদিন ফারুক ও শামসুজ্জামান দুদুসহ আরও কয়েকজন নেতাকে মন্ত্রিসভায় যুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলের নামও সম্ভাব্য নতুন মুখ হিসেবে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রিসভায় শরিকদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ার সম্ভাবনা

বিএনপির সঙ্গে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলনে থাকা মিত্র ও শরিক দলগুলোর কয়েকজন নেতাকে মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

সম্ভাব্য টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিমের নাম আলোচনায় রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

গত ২০ জুলাই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিএনপি ও মিত্র-শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় শরিকদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল ওই বৈঠকে। এর পর থেকেই সরকারে শরিকদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

মির্জা ফখরুলের আসনেও উপনির্বাচনের সম্ভাবনা

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হবে। ফলে ওই আসনে উপনির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যদের নাম আলোচনায় এলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

সংসদ উপনেতার পদ নিয়েও নতুন করে হিসাব-নিকাশ চলছে। পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। সম্ভাব্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও সালাহউদ্দিন আহমদের নাম আলোচনায় রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “পুনর্গঠন বা রদবদল দল ও সরকারের ক্ষেত্রে রুটিন ওয়ার্ক। প্রয়োজনের তাগিদেই পুনর্গঠন বা রদবদল করা হয়। সরকারপ্রধান প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলে তিনিই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে সে ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্তদের কার্যসম্পাদনের মূল্যায়নও বিবেচনায় নেওয়া হয়।”

তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, দলীয় পুনর্গঠন ও মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর কোনোটিই এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD