পার্বত্য চট্টগ্রামে এমপির চেয়ে চেয়ারম্যানের ক্ষমতা বেশি

পার্বত্য চট্টগ্রামে নির্বাচিত সংসদ সদস্যের তুলনায় অনির্বাচিত পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের ক্ষমতা বেশি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাঙামাটি শহরের একটি রেস্তোরাঁয় এনসিপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সাংগঠনিক সমন্বয় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
সারজিস আলম বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বিএনপির দলীয় জেলা পরিষদ গঠন করা হয়েছে। তার অভিযোগ, জেলা পরিষদকে ঘিরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে অনেকেই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার চেয়ে পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য হতে আগ্রহী। তিনি দাবি করেন, অর্থের বিনিময়ে সদস্য হয়ে পরে বড় অঙ্কের অর্থ লুটপাটের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠনের ক্ষেত্রে বিএনপির অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী থাকা সত্ত্বেও দলীয় প্রভাব ও অভ্যন্তরীণ সমীকরণের কারণে তাদের অনেকে জায়গা পাননি।
বিজ্ঞাপন
এনসিপির এই নেতা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা পরিষদগুলোর মাধ্যমে প্রতিবছর বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলেও প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। তাই দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে জেলা পরিষদগুলোতে জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিএনপির সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিএনপি যে ধরনের নিপীড়ন ও জুলুমের অভিযোগ করেছিল, বর্তমানে তারাই একই ধরনের কর্মকাণ্ড করছে। তার দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে তৈরি হয়েছিল, বিএনপির ক্ষেত্রে তা ছয় মাসের মধ্যেই দৃশ্যমান হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোক নিয়োগের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এভাবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। পার্বত্য এলাকায় এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও মামলা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, অতীতে যারা এ ধরনের রাজনৈতিক চর্চা করেছে, তাদের পরিণতি দেশের মানুষ দেখেছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক সংগঠনকে স্বাধীনভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া উচিত। শেষ পর্যন্ত জনগণই নির্ধারণ করবে তারা কোন দলকে সমর্থন করবে।
সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সারজিস আলম বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটে এনসিপি রয়েছে এবং এ জোট ভেঙে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তার দাবি, একটি ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী জামায়াত-এনসিপির জোট নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডিসেম্বর মাসে তার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নেই। এমনকি তার মরদেহও বাংলাদেশের মাটিতে দাফন করা হবে না বলে মন্তব্য করেন সারজিস আলম।








