Logo

সরকার পতনের কোনো আন্দোলন আমরা করছি না: মিয়া গোলাম পরওয়ার

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৫:২৩
সরকার পতনের কোনো আন্দোলন আমরা করছি না: মিয়া গোলাম পরওয়ার
ছবি: সংগৃহীত

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বর্তমান সরকারকে আন্দোলনের মাধ্যমে দ্রুত ক্ষমতা থেকে সরানোর কোনো কর্মসূচি তারা নিচ্ছেন না। সরকার উৎখাতের উদ্দেশ্যে তাদের কোনো আন্দোলনও নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

লং মার্চের সর্বশেষ প্রস্তুতি তুলে ধরে গোলাম পরওয়ার বলেন, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত প্রতিটি জেলা ও মহানগরে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে কর্মসূচি সম্পন্ন করার প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। এতে প্রায় দেড় হাজার গাড়ি অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। সকাল ৭টায় ঢাকার শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশের পর গাড়িবহর চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হবে। পথে কয়েকটি স্থানে সংক্ষিপ্ত পথসভা হবে। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে সন্ধ্যা ৭টার দিকে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে পৌঁছানোর আশা করছে ১১ দল।

পথসভায় বক্তব্য দেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বলেন, একটি পথসভা চলার সময় অগ্রবর্তী একটি দল পরবর্তী নির্ধারিত স্থানে চলে যাবে। সেখানে তারা বক্তব্য দিয়ে পরবর্তী স্পটে এগিয়ে যাবে। পরে মূল শীর্ষ নেতারা সেখানে গিয়ে যোগ দেবেন। এভাবে সময় সাশ্রয় করা হবে।

বিজ্ঞাপন

সম্ভাব্য পথসভাগুলোর স্থান উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, চিটাগাং রোডের কাচপুর ব্রিজসংলগ্ন ট্রাকস্ট্যান্ডে প্রথম পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, কুমিল্লার নুরজান হোটেলের সামনে, চৌদ্দগ্রাম, মহিপাল ও মিরসরাইয়ে পথসভা হবে। এসব কর্মসূচি শেষে গাড়িবহর চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানের দিকে যাবে। যানজট বা গাড়ির কারিগরি সমস্যার মতো স্বাভাবিক কোনো পরিস্থিতি তৈরি না হলে সন্ধ্যা ৭টার দিকে সেখানে পৌঁছানোর প্রত্যাশা রয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

লং মার্চে অংশ নেওয়া প্রত্যেককে ডেলিগেট কার্ড দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি গাড়ির সামনে ও পেছনে স্টিকার এবং নির্দিষ্ট নম্বর থাকবে। শীর্ষ নেতাদের নিরাপত্তা, অ্যাম্বুলেন্স, সাংস্কৃতিক বিভাগ, আইটি ও মেডিকেল বিভাগের গাড়িগুলো নির্ধারিত ক্রমে রাখা হবে।

বিজ্ঞাপন

গাড়িবহরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অংশগ্রহণকারীদের পথে গাড়ি থেকে না নামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, পথসভাগুলোতে স্থানীয় ১১ দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন। গাড়িবহরে থাকা ডেলিগেটরা নিজ নিজ গাড়িতেই অবস্থান করবেন। নির্ধারিত নেতারাই কেবল বক্তব্য দেওয়ার জন্য গাড়ি থেকে নামবেন এবং বক্তব্য শেষে আবার গাড়িতে ফিরে যাবেন।

পথে নতুন কোনো গাড়ি বহরে যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকবে না বলেও জানান গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, যারা লং মার্চে যুক্ত হতে চান, তাদের বহরের একেবারে শেষ প্রান্তে এসে যোগ দিতে হবে।

তিনি জানান, লং মার্চে মেডিকেল ও কার্ডিয়াক অ্যাম্বুলেন্স, সাংস্কৃতিক দলের গাড়ি এবং আইটি টিম থাকবে। আইটি টিম কর্মসূচিটি সরাসরি সম্প্রচার করবে। পাশাপাশি বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক এবং অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর নিজস্ব মিডিয়া টিমও গাড়িবহরে থাকবে।

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রামে লং মার্চ ঘিরে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে দাবি করে গোলাম পরওয়ার বলেন, লালদীঘি ময়দান ছাড়িয়ে পুরো চট্টগ্রাম মহানগরী জনসভায় পরিণত হবে বলে তারা আশা করছেন।

সরকারের প্রতি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিরোধী দলের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক কর্মসূচি হিসেবে এই লং মার্চ শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচি সফল করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়ে জনগণের আস্থা ধরে রাখার আহ্বান জানান তিনি।

একই সঙ্গে কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কোনো সরকারি দল, অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন কিংবা প্রশাসনের কোনো অংশ প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি করলে সরকার জনগণের আস্থা আরও হারাবে এবং জনরোষের মুখে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন গোলাম পরওয়ার।

বিজ্ঞাপন

লং মার্চকে সরকার পতনের কর্মসূচি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই দাবি করে তিনি বলেন, তাদের উদ্দেশ্য আগামীকালই সরকারকে আন্দোলনের মাধ্যমে পতন ঘটানো নয়। বরং জনগণের দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় মেনে নেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা, জনদুর্ভোগ, সার, বিদ্যুৎ, দুর্নীতি ও দলীয়করণসহ ছয় দফা দাবি বাস্তবায়ন।

তিনি আরও বলেন, সরকারকে উৎখাত করার কথা তারা বলেননি। সংসদীয় গণতন্ত্রের দেশগুলোতে বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি গণতন্ত্র চর্চারই অংশ এবং এটিই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।

রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মতের প্রতি সহিষ্ণুতা বাড়ানো এবং রাজনৈতিক সহিংসতা ও ভিন্নমতের ওপর দমন-পীড়নের পুরোনো সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ সরকারের সামনে এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

এসময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এখন পর্যন্ত লং মার্চ ঘিরে নাশকতা বা বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা তারা করছেন না। সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকায় কোনো দুষ্কৃতিকারী বা বিশৃঙ্খলাকারী পরিস্থিতি তৈরির সাহস পাবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, কোনো দুষ্কৃতিকারী হামলা বা বিশৃঙ্খলা ঘটালে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে। দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে—এমন পরিস্থিতি তারা মেনে নেবেন না। সরকারের আশপাশে থাকা যেসব মন্ত্রী দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দিচ্ছেন, তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখারও আহ্বান জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, লং মার্চে সরকার পূর্ণ নিরাপত্তা দেবে—এটাই তারা আশা করছেন। কোনো হামলা বা বিশৃঙ্খলা হলে এর দায় সরকারকে নিতে হবে এবং এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে তার শক্ত জবাব দেওয়া হবে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD