Logo

যে ছোট বিরক্তিগুলো আমাদের ঈমান গড়ে তোলে

profile picture
জনবাণী ডেস্ক
২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ১৫:৩৩
যে ছোট বিরক্তিগুলো আমাদের ঈমান গড়ে তোলে
ছবি: সংগৃহীত

দৈনন্দিন জীবনে আমরা প্রায়ই নানা রকম ছোটখাটো সমস্যার মুখোমুখি হই। সকালবেলা বাসা থেকে বের হয়েই ট্রাফিক জ্যামে আটকে পড়া, নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে অনেক বেশি অপেক্ষা করানো, অফিসে সহকর্মীর বিরক্তিকর আচরণ, পরিবারের মধ্যে তুচ্ছ বিষয়ে কথা-কাটাকাটি, দোকানে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা কিংবা বারবার ইন্টারনেট ধীর হয়ে যাওয়া— এসবই আমাদের পরিচিত অভিজ্ঞতা। দেখতে ছোট মনে হলেও এই ঘটনাগুলোই আসলে মানুষের ধৈর্য, সংযম ও মানসিক দৃঢ়তার প্রকৃত পরীক্ষা নেয়।

বিজ্ঞাপন

এই সামান্য অসুবিধাগুলোতে যদি আমরা সহজেই বিরক্ত হয়ে পড়ি বা রাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটাই, তাহলে বড় বিপদ ও সংকটের সময় ধৈর্যধারণ করা আরও কঠিন হয়ে যায়। ইসলাম তাই দৈনন্দিন জীবনের এসব ছোট মুহূর্তকেই ধৈর্য ও আত্মসংযমের অনুশীলনের শ্রেষ্ঠ সুযোগ হিসেবে তুলে ধরে।

পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন,“হে ঈমানদারগণ! তোমরা ধৈর্য ও নামাজের সাহায্য গ্রহণ করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।” (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৫৩)

এই আয়াত আমাদের শেখায়, ধৈর্য শুধু বড় বিপদে নয়— বরং জীবনের প্রতিদিনের ছোটখাটো কষ্ট, অস্বস্তি ও বিরক্তির সময়েও অপরিহার্য। আল্লাহর সাহায্য ও সান্নিধ্য অর্জনের অন্যতম শর্তই হলো ধৈর্য।

বিজ্ঞাপন

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন, “যে মুমিন মানুষের সঙ্গে মিশে এবং তাদের কাছ থেকে পাওয়া কষ্ট সহ্য করে, তার প্রতিদান তার চেয়ে বেশি— যে মানুষের সঙ্গে মিশে না এবং তাদের কষ্ট সহ্য করে না।” (সুনান ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৪০৩২)

এই হাদিসে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, সমাজ ও মানুষের সঙ্গে চলতে গিয়ে যে ছোটখাটো বিরক্তি ও কষ্ট আসে, সেগুলো সহ্য করাই আল্লাহর কাছে অধিক মর্যাদার কারণ।

বিজ্ঞাপন

আরেকটি হাদিসে নবীজি (সা.) বলেন, “কোনো মুসলিমের ওপর ক্লান্তি, অসুস্থতা, দুশ্চিন্তা, দুঃখ, কষ্ট কিংবা মানসিক অস্থিরতা— এমনকি কাঁটার আঁচড়ও লাগে না, তবে আল্লাহ তার ধৈর্যের বিনিময়ে তার গুনাহ মাফ করে দেন।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৬৪১)

এখানে ‘কাঁটার আঁচড়’-এর উদাহরণ দিয়ে বোঝানো হয়েছে, সবচেয়ে সামান্য কষ্টও যদি ধৈর্যের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়, তা গুনাহ মাফের কারণ হতে পারে। অর্থাৎ আমাদের প্রতিদিনের ছোট বিরক্তিগুলোই আল্লাহর কাছে বড় সওয়াব অর্জনের সুযোগ তৈরি করে।

দৈনন্দিন জীবনে নবীজির (সা.) ধৈর্যের দৃষ্টান্ত: নবী করিম (সা.)-এর জীবন ছিল ধৈর্য ও সহনশীলতার সর্বোত্তম উদাহরণ। আবু লাহাবের স্ত্রী উম্মে জামিল নিয়মিতভাবে তার চলার পথে আবর্জনা ফেলে কষ্ট দিতেন। তবু নবীজি (সা.) কখনো প্রতিশোধ নেননি, রাগ প্রকাশ করেননি বা অভিযোগ করেননি। বরং তিনি ধৈর্য ও মহত্তার পরিচয় দিয়েছেন। (তাফসীরে তাবারী, সুরা লাহাব)

বিজ্ঞাপন

ছোট অসুবিধায় ধৈর্য ধরার ব্যবহারিক আমল: ইসলাম শুধু ধৈর্যের নির্দেশই দেয়নি, বরং তা অর্জনের বাস্তব পদ্ধতিও শিখিয়েছে। যেমন— রাগের সময় চুপ থাকা। নবীজি (সা.) বলেছেন, “রাগ হলে চুপ করে থাকো।” (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ৪৭৮৬) ‘আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম’ পড়া। রাগের সময় অজু করে নেওয়া, কারণ রাগ শয়তানের পক্ষ থেকে আসে এবং শয়তান আগুন থেকে সৃষ্ট।ছোটখাটো কষ্টে ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ বলে আল্লাহর দিকে মন ফেরানো।

এই আমলগুলো মানুষকে মানসিকভাবে শান্ত রাখে, সম্পর্ককে সুন্দর করে এবং আল্লাহর নৈকট্য বাড়ায়।

বিজ্ঞাপন

ছোট সমস্যায় ধৈর্যের বড় ফল: যখন আমরা ট্রাফিক জ্যামে আটকে থেকেও ধৈর্য ধরি, কারও খারাপ কথায় সংযম বজায় রাখি কিংবা অপেক্ষার সময় অস্থির না হই— তখন আল্লাহ আমাদের গুনাহ মাফ করেন, অন্তরে প্রশান্তি দেন এবং আমাদের চরিত্রকে আরও দৃঢ় করেন। এই ধৈর্যই পরিবার, সমাজ ও কর্মক্ষেত্রে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে।

আসলে ব্যস্ত ও উত্তেজনাপূর্ণ দৈনন্দিন জীবনের এসব ছোট সমস্যাই আমাদের ঈমানের প্রকৃত পরীক্ষা। ইসলাম আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়— সত্যিকারের ধৈর্য বড় বিপদে নয়, বরং এই ছোট মুহূর্তগুলোতেই প্রকাশ পায়। যদি আমরা এখানে সফল হই, তবে আল্লাহ আমাদের সঙ্গে থাকবেন এবং প্রতিদান হবে অপরিসীম।

নিশ্চয়ই, আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গেই আছেন।

জেবি/আরএক্স
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD