Logo

ইসলামকে পুঁজি করে অলিগলিতে মাদরাসা গড়ে উঠেছে: উমামা ফাতেমা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১৭:১৫
ইসলামকে পুঁজি করে অলিগলিতে মাদরাসা গড়ে উঠেছে: উমামা ফাতেমা
ছবি: সংগৃহীত

গত চার দশকে দেশে ইসলামকে পুঁজি করে অলিগলিতে মাদরাসা গড়ে উঠেছে, যেখানে ধর্মের নামে ভয়ের সংস্কৃতি চর্চা করা হয় বলে মন্তব্য করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

পোস্টে উমামা ফাতেমা প্রশ্ন তোলেন, কেউ ধর্মীয় পোশাক পরলেই কি তার হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড বৈধ হয়ে যায়? ধর্মীয় শিক্ষার নামে গ্রাম-গঞ্জে ফতোয়াবাজির বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি লেখেন, ছোটবেলা থেকে ধর্মকে অনেক ক্ষেত্রে কী করা যাবে না—সেই বিধিনিষেধের মধ্য দিয়ে বোঝানো হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, হালাল-হারামের সীমারেখা শেখানোর পাশাপাশি মানুষের মনুষ্যত্ব ও হৃদয়ের বিকাশও গুরুত্ব পাওয়া উচিত। অথচ ধর্মকে অন্যকে নিপীড়ন এবং নিজের শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ধর্মীয় শিক্ষকদের যোগ্যতা ও নৈতিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন উমামা। আলেম সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যে ব্যক্তি কোনো শিশুকে হয়রানি করার চিন্তা করতে পারেন, তিনি ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার যোগ্য কি না, তা নিজেদেরই ভেবে দেখা উচিত।

পোস্টে তিনি ভারতীয় উপমহাদেশের দেওবন্দ মাদরাসার উদাহরণ টেনে বলেন, একসময় এ প্রতিষ্ঠান থেকে মওলানা ভাসানীর মতো জাতীয় নেতৃত্ব তৈরি হয়েছে। তবে বাংলাদেশে ইসলামের আধ্যাত্মিক শিক্ষার জন্য বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে না ওঠার কারণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

উমামার অভিযোগ, দেশে মাদরাসার সংখ্যা বাড়লেও অনেক ক্ষেত্রে ধর্মের নামে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় শিক্ষার রাজনীতিকরণ থেকে ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলো কতটা উপকৃত হচ্ছে এবং সমাজে ধর্মীয় আধ্যাত্মিকতা ছড়িয়ে দিতে তারা কতটা কাজ করছে, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

পোস্টের শেষাংশে নিজের কন্যাসন্তানের ওপর নিপীড়নের জবাবে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে চড় মারা এক বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান উমামা ফাতেমা। তাঁর মতে, অন্যকে সম্মান দেখানোর আগে তার আচরণ ও মানসিকতার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD