শিরোপার লড়াইয়ে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স–চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স

২৮ দিনের প্রতীক্ষা, ৩৩ ম্যাচের লড়াই আর অসংখ্য আলোচনা–সমালোচনার পর আজ পর্দা নামছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বাদশ আসরের। আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শিরোপার মঞ্চে মুখোমুখি হবে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স।
বিজ্ঞাপন
লিগ পর্ব শেষে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুই দল হিসেবেই প্লে-অফে জায়গা করে নেয় রাজশাহী ও চট্টগ্রাম। প্রথম কোয়ালিফায়ারে রাজশাহীকে হারিয়ে সবার আগে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম। অন্যদিকে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে সিলেট টাইটান্সকে পরাজিত করে ফাইনালে ওঠে রাজশাহী। ফলে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই দল।
রাজশাহীর ক্রিকেট ইতিহাসে ফাইনালের অভিজ্ঞতা নতুন নয়। রাজশাহী রয়্যালস একবার শিরোপা জিতেছিল এবং রাজশাহী কিংস একবার রানার্সআপ হয়েছিল। তবে বর্তমান ফ্র্যাঞ্চাইজি রাজশাহী ওয়ারিয়র্স অভিষেক আসরেই ফাইনালে উঠে নজর কেড়েছে। দলের হেড কোচ হিসেবে এবার বড় দায়িত্বে আছেন হান্নান সরকার, যিনি আগের দুই ফাইনাল খেলা রাজশাহী দলের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে চট্টগ্রামের কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজিই এখনো বিপিএলের শিরোপা জয়ের স্বাদ পায়নি। তিনবার ফাইনালে উঠলেও প্রতিবারই হতাশ হতে হয়েছে। এবার সেই আক্ষেপ ঘোচানোর সুযোগ এসেছে শেখ মেহেদীর নেতৃত্বাধীন চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের সামনে।
পুরো টুর্নামেন্টে সবচেয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়েছে রাজশাহী। গ্রুপ পর্বে সর্বাধিক ম্যাচ জয়ের পাশাপাশি ভারসাম্যপূর্ণ দল গড়ে তারা শিরোপার দাবিদার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। চট্টগ্রাম অধিনায়ক শেখ মেহেদীও ফাইনালের আগে রাজশাহীকে আসরের অন্যতম সেরা দল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
ফাইনাল প্রসঙ্গে রাজশাহীর হেড কোচ হান্নান সরকার জানান, শুরু থেকেই তাদের লক্ষ্য ছিল শিরোপা জয়। তিনি বলেন, দল হিসেবে তারা নিজেদের পরিকল্পনায় বিশ্বাস রাখছেন এবং অতীত ইতিহাস নিয়ে ভাবতে চান না। ক্রিকেটে ভাগ্য ও পারফরম্যান্স—দুটোই গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
চট্টগ্রামের গল্পটা একটু ভিন্ন। আসর শুরুর ঠিক আগের দিন ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকপক্ষ সরে দাঁড়ালে দায়িত্ব নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। কোচিং স্টাফ, জার্সি—সবকিছু বদলে গেলেও মাঠে দারুণ পারফরম্যান্সে চমক দেখিয়েছে দলটি। শেখ মেহেদীর নেতৃত্বে প্রতিটি ম্যাচে আলাদা আলাদা ক্রিকেটারের পারফরম্যান্সই চট্টগ্রামের বড় শক্তি হয়ে উঠেছে।
ফাইনাল নিয়ে আশাবাদী চট্টগ্রাম অধিনায়ক বলেন, শিরোপার স্বপ্ন দেখাটা স্বাভাবিক। তার মতে, যে দল সব বিভাগে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারবে, দিনশেষে ট্রফিটা তারাই হাতে তুলবে।
বিজ্ঞাপন
দুই দলের শক্তিমত্তার দিক থেকে রাজশাহীর হয়ে কিউই তারকা কেন উইলিয়ামসন ও জিমি নিশাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। সঙ্গে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে ছিলেন শ্রীলঙ্কার বাঁহাতি পেসার বিনুরা ফার্নান্দো ও বাংলাদেশি পেসার রিপন মন্ডল। ফিল্ডিংয়েও আলাদা করে নজর কেড়েছে রাজশাহী।
অন্যদিকে চট্টগ্রামের হয়ে নিয়মিত অবদান রেখে চলেছেন শেখ মেহেদী, শরিফুল ইসলাম, মোহাম্মদ নাঈম শেখ, হাসান নাওয়াজ ও আসিফ। যে কারণে টুর্নামেন্টজুড়ে চট্টগ্রামের জয়ী ম্যাচগুলোতে ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছে ভিন্ন ভিন্ন ক্রিকেটারের হাতে।
সব মিলিয়ে আজকের ফাইনাল ঘিরে রয়েছে দারুণ উত্তেজনা। অভিষেক আসরেই রাজশাহীর শিরোপা জয়ের স্বপ্ন, নাকি বহুদিনের অপেক্ষা ঘোচাবে চট্টগ্রাম—সে উত্তর মিলবে সন্ধ্যার শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ে।








