বিপিএল ফিক্সিং কাণ্ডে ক্রিকেটারসহ ৫ জনকে শাস্তি দিলেন বিসিবি

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ২০২৫ আসরে ম্যাচ ফিক্সিং ও দুর্নীতির অভিযোগে একজন ক্রিকেটারসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দীর্ঘ তদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞাপন
বিসিবি জানায়, তদন্তে অন্তত চারজনের বিরুদ্ধে ফিক্সিং ও জুয়াসংক্রান্ত কার্যক্রমে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ঘরোয়া ক্রিকেটার অমিত মজুমদার, টিম ম্যানেজার মো. লাবলুর রহমান, ফ্র্যাঞ্চাইজির সহ-মালিক মো. তৌহিদুল হক তৌহিদ এবং আরেক টিম ম্যানেজার রেজওয়ান কবির সিদ্দিকী।
আরও পড়ুন: ‘মেসি আর্জেন্টিনারও সেরা খেলোয়াড় নন’
তদন্ত চলাকালে তাদের সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য নোটিশ পাওয়ার পর থেকে ১৪ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আপাতত আর কোনো মন্তব্য করবে না বলেও জানিয়েছে বিসিবি।
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া বিপিএলের ৯ম, ১০ম ও ১১তম আসরে দুর্নীতির অভিযোগে সামিনুর রহমানের বিরুদ্ধে ‘বিসিবি এক্সক্লুডেড পারসন পলিসি’র আওতায় বহিষ্কারাদেশ জারি করা হয়েছে। তদন্তে তার বিরুদ্ধে জুয়াসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড, খেলোয়াড় ও এজেন্টদের দুর্নীতির প্রস্তাব দেওয়া এবং দেশি-বিদেশি বেটিং সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিসিবি জানিয়েছে, তিনি আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার ত্যাগ করে এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন।
বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের তদন্তে দুর্নীতির চেষ্টা, বাজিতে সম্পৃক্ততা, তদন্তে অসহযোগিতা এবং তথ্য গোপনের মতো অভিযোগ উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ও তথ্য মুছে ফেলা কিংবা তদন্ত কাজে বাধা দেওয়ারও চেষ্টা করেছেন।
বিজ্ঞাপন
অমিত মজুমদারের বিরুদ্ধে ক্রিকেট ম্যাচে বাজি ধরা বা বাজি গ্রহণের অভিযোগ আনা হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে রেজওয়ান কবির সিদ্দিকীর বিরুদ্ধেও। অন্যদিকে লাবলুর রহমান ও তৌহিদুল হকের বিরুদ্ধে তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে।
২০২৫ সালের বিপিএল চলাকালেই ফিক্সিংয়ের অভিযোগ সামনে আসে। পরে বিসিবির তৎকালীন সভাপতি ফারুক আহমেদের উদ্যোগে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে প্রায় ৯০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়, যা পরে বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শালের কাছে হস্তান্তর করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।
বিজ্ঞাপন
উল্লেখ্য, সর্বশেষ বিপিএলের নিলামে এনামুল হক বিজয় ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতসহ কয়েকজন ক্রিকেটার অংশ নেননি। ফিক্সিং সন্দেহের কারণে তাদের এবারের আসরে খেলতে দেওয়া হয়নি বলে জানা গেলেও চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
সূত্র: বিসিবি








