এবারও কি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে আর্জেন্টিনা!

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে শিরোপা জিতেছিল আর্জেন্টিনা। লুসাইল স্টেডিয়ামে রোমাঞ্চকর ফাইনালে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতাও ঘুচিয়েছিলেন লিওনেল মেসি।
বিজ্ঞাপন
চার বছর পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনার নেতৃত্বে রয়েছেন মেসি। শুধু স্কোয়াডে থাকা নয়, এবারও দলের কৌশল ও পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তিনি। কোচ লিওনেল স্কালোনির বিশ্বকাপ দল গঠনের ভাবনায় মেসিই প্রধান ভরসা।
স্কালোনির ঘোষিত দলে ২০২২ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের ১৭ জন সদস্য রয়েছেন। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন আরও ৯ জন নতুন ও তরুণ ফুটবলার। অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের এই মিশ্রণকে অনেক বিশ্লেষকই শিরোপা ধরে রাখার জন্য আদর্শ সমন্বয় হিসেবে দেখছেন।
বিজ্ঞাপন
ফুটবল ইতিহাসে টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের ঘটনা খুবই বিরল। সর্বশেষ ১৯৬২ সালে ব্রাজিল এ কীর্তি গড়েছিল। তার আগে ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালে ইতালি পরপর দুটি বিশ্বকাপ জেতে। এরপর আর কোনো দল সেই সাফল্য পুনরাবৃত্তি করতে পারেনি।
১৯৯০ সালে দিয়েগো ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা এবং ১৯৯৮ সালে ব্রাজিলের সামনে সুযোগ থাকলেও তারা ব্যর্থ হয়। ২০২২ সালে ফ্রান্সও টানা দ্বিতীয় শিরোপার খুব কাছে গিয়েছিল, কিন্তু ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে যায়।
এবার আর্জেন্টিনা কি সেই ইতিহাস বদলাতে পারবে? উত্তর মিলবে টুর্নামেন্টের শেষ দিনে। তবে কয়েকটি বিষয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের পক্ষে কথা বলছে।
বিজ্ঞাপন
প্রথমত, দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড়ের বিশ্বকাপ জয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে। দ্বিতীয়ত, ড্রেসিং রুমে রয়েছে অসাধারণ ঐক্য ও স্থিতিশীলতা। আধুনিক ফুটবলে দলীয় সংহতি এবং পারস্পরিক বোঝাপড়াকে সাফল্যের অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে ধরা হয়, যা আর্জেন্টিনা দলে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন ক্রীড়া আসরেও দেখা গেছে, তারকানির্ভরতার চেয়ে দলীয় ঐক্য বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখছে। ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবল কিংবা ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনেও ড্রেসিং রুমের ইতিবাচক পরিবেশ ও সমন্বিত দলীয় প্রচেষ্টার গুরুত্ব উঠে এসেছে।
বিজ্ঞাপন
বিশ্লেষকদের মতে, আর্জেন্টিনার বর্তমান দলেও সেই বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। কোচ, খেলোয়াড় ও দলের সামগ্রিক পরিবেশ—সবকিছু মিলিয়ে তারা অন্য অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী দলের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে।
তাই বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার বলেই মনে করছেন ফুটবলবোদ্ধারা। শেষ পর্যন্ত মেসির হাতে আবারও বিশ্বকাপ উঠবে কি না, সেটিই এখন কোটি সমর্থকের অপেক্ষার বিষয়।








