আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে ফিফা

বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে পরাজয়ের পর মাঠে ঘটে যাওয়া সংঘর্ষ এবং টুর্নামেন্টজুড়ে ওঠা একাধিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। বিষয়টি তদন্তের পর প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিজ্ঞাপন
ফাইনালের পর নিউইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো পর্যালোচনার জন্য ফিফা একজন শৃঙ্খলা ও নৈতিকতাবিষয়ক প্রসিকিউটর নিয়োগ দেয়। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ আমলে নিয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
ফিফার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাদের বক্তব্য পর্যালোচনার পর ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে।
ফাইনালের পর উত্তপ্ত পরিস্থিতি
বিজ্ঞাপন
ফাইনালে স্পেন ১-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করার পর শেষ বাঁশি বাজতেই স্প্যানিশ ফুটবলাররা মাঠে নেমে উদযাপন শুরু করেন। এ সময় দুই দলের কয়েকজন খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফের সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
অভিযোগ অনুযায়ী, আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস স্পেনের মিডফিল্ডার গাভিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং পরে তার মুখে আঘাত করেন। একই ঘটনায় স্পেনের ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়াও আঘাতপ্রাপ্ত হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে
বিজ্ঞাপন
তদন্তকারী প্রসিকিউটরের সুপারিশের ভিত্তিতে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নাহুয়েল মলিনার বিরুদ্ধে দুটি, লিয়ান্দ্রো পারেদেসের বিরুদ্ধে তিনটি এবং সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
এ ছাড়া মলিনার বিরুদ্ধে খেলোয়াড়সুলভ আচরণবিরোধী অভিযোগও রয়েছে। একই ধরনের অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন আর্জেন্টিনার থিয়াগো আলমাদা এবং স্পেনের মিডফিল্ডার গাভিও।

ফিফার শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী, খেলোয়াড়সুলভ আচরণ লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে অন্তত এক ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা হতে পারে। আর সংঘর্ষ বা সহিংস আচরণের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে ন্যূনতম তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ হওয়ার বিধান রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও তদন্তের মুখে
শুধু কয়েকজন খেলোয়াড় নয়, আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধেও পৃথক শৃঙ্খলাজনিত তদন্ত শুরু করেছে ফিফা।
অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে খেলাধুলার চেতনার পরিপন্থী কর্মকাণ্ড, দলের অসদাচরণ, বৈষম্যমূলক ও বর্ণবাদী আচরণ এবং ম্যাচ পরিচালনা ও নিরাপত্তাবিষয়ক নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া তদন্তে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বৈষম্যমূলক স্লোগান ও অঙ্গভঙ্গি, নির্ধারিত সময়ের পরে ম্যাচ শুরু হওয়া, দল ও দর্শকদের মাধ্যমে অনুপযুক্ত বার্তা প্রদর্শন এবং মাঠে বিভিন্ন বস্তু নিক্ষেপের মতো ঘটনাও।
রাজনৈতিক বার্তা নিয়েও প্রশ্ন
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বের দাবিসংবলিত একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। স্প্যানিশ ভাষায় লেখা ওই ব্যানারে দাবি করা হয়, ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার।’
বিজ্ঞাপন
ফিফা জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক ফুটবল আসরকে রাজনৈতিক বা খেলাধুলার বাইরের কোনো প্রচারণার মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা শৃঙ্খলাবিধির পরিপন্থী হতে পারে। অতীতেও একই ধরনের ঘটনার জন্য আর্জেন্টিনাকে জরিমানার মুখোমুখি হতে হয়েছিল।
বর্তমানে সব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রমাণ পর্যালোচনার পর ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়, কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে।








