Logo

ফিফা আসিয়ান কাপ: সুযোগ লুফে নিলো পাকিস্তান, ব্যর্থ বাফুফে

profile picture
ক্রীড়া প্রতিবেদক
২৯ জুলাই, ২০২৬, ১৮:৪৮
ফিফা আসিয়ান কাপ: সুযোগ লুফে নিলো পাকিস্তান, ব্যর্থ বাফুফে
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফুটবলের মানোন্নয়নে ফিফার উদ্যোগে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হতে যাচ্ছে আসিয়ান কাপ। তবে এই টুর্নামেন্টে অতিথি দল হিসেবে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। বিপরীতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে সেই সুযোগ নিজেদের করে নিয়েছে পাকিস্তান।

বিজ্ঞাপন

শুরুর পরিকল্পনা অনুযায়ী অতিথি দল হিসেবে চীনের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ২০২৭ এশিয়ান কাপের প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিতে টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ায় দেশটি। এরপর আয়োজকদের নজর যায় দক্ষিণ এশিয়ার দিকে। ভারতের অংশগ্রহণ আগে থেকেই নিশ্চিত থাকলেও খালি হওয়া জায়গাটি দ্রুত দখল করে নেয় পাকিস্তান।

ফলে আন্তর্জাতিক মানের এই প্রতিযোগিতায় খেলার সম্ভাবনা থাকলেও সাংগঠনিক উদ্যোগের অভাবে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। সংশ্লিষ্টদের মতে, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে চীনের পরিবর্তে আমন্ত্রিত দল হিসেবে বাংলাদেশের অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

আগামী সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হবে ফিফা আসিয়ান কাপের প্রথম আসর। দুই বিভাগে মোট ১৪টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। প্রিমিয়ার ডিভিশনে থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়াসহ এশিয়ার শক্তিশালী কয়েকটি দল খেলবে। চীনের পরিবর্তে এই বিভাগেই জায়গা করে নিয়েছে পাকিস্তান।

এদিকে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয় দলের জন্য তিন থেকে চারটি ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ আয়োজনের চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে। তবে এখনো কোনো ম্যাচের সূচি চূড়ান্ত হয়নি। আসিয়ান কাপে অংশ নেওয়া গেলে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলে সাফের আগে কার্যকর প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পেত থমাস ডুলির শিষ্যরা।

বিশ্লেষকদের মতে, উন্নতমানের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নিয়মিত অংশগ্রহণ খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু সাংগঠনিক সীমাবদ্ধতা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ঘাটতি এবং অন্যান্য জটিলতার কারণে এমন সুযোগ বারবার হাতছাড়া হচ্ছে বাংলাদেশের।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, পাকিস্তানের এই অংশগ্রহণকে শুধু টুর্নামেন্টে জায়গা পাওয়ার ঘটনা নয়, বরং তাদের প্রশাসনিক দক্ষতারও একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর কুয়ালালামপুরে আসিয়ান সম্মেলনে এই প্রতিযোগিতার ঘোষণা দেন। ফিফা ও আসিয়ানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর আরব কাপের আদলে টুর্নামেন্টটি চালুর সিদ্ধান্ত হয়। এর লক্ষ্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ফুটবলের মানোন্নয়ন এবং প্রতিযোগিতাকে আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডারের অন্তর্ভুক্ত করা।

বিজ্ঞাপন

এই টুর্নামেন্টে আকর্ষণীয় অর্থ পুরস্কারেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ডিভিশন-১ চ্যাম্পিয়ন দল পাবে প্রায় ১০ লাখ মার্কিন ডলার, ডিভিশন-২ চ্যাম্পিয়ন পাবে প্রায় ৩ লাখ মার্কিন ডলার এবং অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দল পাবে ১ লাখ ২৫ হাজার মার্কিন ডলার।

প্রিমিয়ার ডিভিশনের দলগুলো হলো—থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ভারত ও পাকিস্তান। আর চ্যালেঞ্জ ডিভিশনে খেলবে হংকং, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, লাওস, ব্রুনাই ও পূর্ব তিমুর।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD