Logo

এশিয়ার বাইরেও সামর্থ্য দেখাতে মরিয়া বাংলাদেশ: সিমন্স

profile picture
ক্রীড়া ডেস্ক
১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৫
এশিয়ার বাইরেও সামর্থ্য দেখাতে মরিয়া বাংলাদেশ: সিমন্স
ছবি: সংগৃহীত

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। এশিয়ার মাটির বাইরে কঠিন কন্ডিশনে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দেওয়াকেই এখন দলের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন তিনি। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো পেস ও বাউন্সনির্ভর কন্ডিশনে ভালো ক্রিকেট খেলে নিজেদের সামর্থ্য প্রতিষ্ঠা করতে চান বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি রেভস্পোর্টজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিমন্স বলেন, বাংলাদেশ নিজেদের একটি শক্তিশালী টেস্ট দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। দেশের বাইরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভালো করার সক্ষমতা দেখানো এখন দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সিমন্সের ভাষায়, এশিয়ার বাইরে খেলতে গেলেই বাংলাদেশের ব্যাটার ও বোলাররা সমস্যায় পড়বেন—এমন প্রচলিত ধারণা বদলে দিতে চান ক্রিকেটাররা। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশে পেস ও বাউন্সের কারণে বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ বাড়ে। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই নিজেদের মান প্রমাণ করতে দলের ক্রিকেটাররা উন্মুখ বলে জানান তিনি।

ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের সাফল্যকে এই মানসিকতারই প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন সিমন্স। তার মতে, অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে টেস্ট খেলার সুযোগই ক্রিকেটারদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা ছিল। এজন্য আলাদা করে কোনো বিশেষ মোটিভেশনের প্রয়োজন হয়নি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ বলেন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট খেলাই ক্রিকেটারদের উজ্জীবিত করার জন্য যথেষ্ট ছিল। দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে নিজেদের একটি ভালো টেস্ট দল হিসেবে প্রমাণ করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছিল। তারা চেয়েছিল সবাইকে দেখাতে, বাংলাদেশ শুধু এশিয়ার কন্ডিশনেই নয়, বিশ্বের যেকোনো জায়গায় ভালো টেস্ট ক্রিকেট খেলতে পারে।

ডারউইন টেস্টে ক্রিকেটারদের মানসিক দৃঢ়তার বিষয়টিও বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানান সিমন্স। তার মতে, ম্যাচের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখা ছিল দলের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।

বিজ্ঞাপন

সিমন্স বলেন, কোনো একটি সেশনে দ্রুত কয়েকটি উইকেট পাওয়ার পর ক্রিকেটারদের মধ্যে অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস তৈরি হতে পারে। আবার দীর্ঘ সময় উইকেট না পেলে হতাশাও ভর করতে পারে। তাই পুরো ম্যাচজুড়ে আবেগকে নিয়ন্ত্রণে রেখে একই ধরনের মানসিক দৃঢ়তা ধরে রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল।

তার মতে, সকালে চার-পাঁচটি উইকেট তুলে নেওয়ার পর সেই সাফল্যের প্রভাব যেন পরবর্তী সেশনেও নেতিবাচকভাবে না পড়ে, সেদিকে নজর ছিল দলের। লাঞ্চ কিংবা চা-বিরতির পরও একই মনোভাব নিয়ে মাঠে ফেরার চেষ্টা করেছেন ক্রিকেটাররা। উইকেট না পেলেও যেন হতাশা খুব বেশি না বাড়ে এবং উইকেট পেলেও যেন অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস তৈরি না হয়—এ ভারসাম্য বজায় রাখাই ছিল দলের অন্যতম লক্ষ্য।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের সাফল্যে অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজের পারফরম্যান্সও বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। সিমন্সের মতে, ডারউইনে মিরাজ সম্ভবত তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ম্যাচ খেলেছেন।

বিজ্ঞাপন

মিরাজের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে সিমন্স বলেন, সময়ের সঙ্গে অলরাউন্ডার হিসেবে তার মর্যাদা আরও বাড়ছে। ওয়ানডে ক্রিকেটেও তিনি বিশ্বের শীর্ষ অলরাউন্ডারদের মধ্যে অবস্থান করছেন। টেস্ট ক্রিকেটেও তার উন্নতি ধারাবাহিকভাবে দৃশ্যমান হচ্ছে।

ডারউইনে বিশেষ করে দ্বিতীয় ইনিংসে মিরাজের বোলিং নজর কেড়েছে সিমন্সের। তার অফস্পিনের বৈচিত্র্য ও নিয়ন্ত্রণের প্রশংসা করে কোচ বলেন, ব্যাটিংয়ের জন্য তুলনামূলক ভালো উইকেটেও মিরাজ বিশ্বমানের বোলিং করেছেন।

অস্ট্রেলিয়ার তারকা ব্যাটার স্টিভ স্মিথের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটারকে বিভ্রান্ত করার সক্ষমতাকে মিরাজের বোলিংয়ের মানের বড় প্রমাণ হিসেবে দেখছেন সিমন্স। তার মতে, সময়ের সঙ্গে মিরাজের অফস্পিন আরও পরিণত হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার প্রভাবও বাড়ছে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের সাম্প্রতিক অগ্রগতি তাই শুধু ঘরের মাঠে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না সিমন্স। তার লক্ষ্য, এশিয়ার বাইরের কঠিন কন্ডিশনেও ধারাবাহিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী টেস্ট দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। ডারউইনের সাফল্য সেই যাত্রায় দলের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে বলেই মনে করছেন তিনি।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD