Logo

কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় শেরপুরে শীতের আমেজ

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
বগুড়া
৭ অক্টোবর, ২০২৫, ১৬:১৮
30Shares
কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় শেরপুরে শীতের আমেজ
ছবি: প্রতিনিধি

প্রবাদে আছে “আশ্বিনে গা করে শিন শিন।” সত্যিই, ভোরবেলা ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে গাড়ির ফাঁকে কুয়াশা আর বাতাসের মৃদু ঠাণ্ডা কম্পন যেন জানান দিচ্ছে দরজায় কড়া নাড়ছে শীত।

বিজ্ঞাপন

বরফাচ্ছন্ন হিমালয় ও কাঞ্চনজংগার নিকটবর্তী হওয়ায় দেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা বগুড়া ও শেরপুরে প্রতিবছরের মতো এবারও কিছুটা আগেই শীতের আগমন ঘটেছে। অক্টোবরের শুরুতেই সেখানে শীতের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। দিনে এখনো রোদ থাকলেও রাত থেকে ভোর পর্যন্ত বাতাসে বইছে হালকা ঠাণ্ডা হাওয়া।

গ্রামীণ জনপদে এই শীতের ছোঁয়া আরও স্পষ্ট। স্থানীয়রা বলছেন, সকালে ঘর থেকে বের হলে শরীরে শিনশিনে ঠাণ্ডা অনুভূত হয়। সাধারণত নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ অঞ্চলে তীব্র শীত থাকে, আর মার্চে শুরু হয় গরমের প্রভাব।

বিজ্ঞাপন

এবার আশ্বিন মাসে বৃষ্টিপাতের পরিমাণও আগের বছরের তুলনায় বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। এর প্রভাবে দিনে গরম থাকলেও রাতের বেলায় শীতের অনুভূতি বাড়ছে।

বগুড়া আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া জানান, “বুধবার থেকে বৃষ্টির প্রভাব কমে তাপমাত্রা হ্রাস পাবে এবং কুয়াশার পরিমাণ বাড়বে। সাধারণত কার্তিক মাসে শীত শুরু হয়, তবে এবার আশ্বিনের শেষ থেকেই শীতের আমেজ টের পাওয়া যাচ্ছে।”

শীতের আগমনের খবরে এখন ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন লেপ-তোষক কারিগররা। শহর ও গ্রামের বাজারগুলোতে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে শীতের কাপড় বিক্রি। ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ক্রেতারা হালকা শীতবস্ত্র কিনতে শুরু করেছেন।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে বাজারে উঠতে শুরু করেছে আগাম শীতের সবজি, শিম, লাউ, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, মুলা ও গাজর ইত্যাদি। তবে দাম কিছুটা চড়া। কৃষকরা বলছেন, অতিবৃষ্টির কারণে আগাম সবজি আবাদ কিছুটা পিছিয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টিতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাঁচা মরিচের গাছ।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. জুলফিকার হায়দার বলেন, “গত বছর ১ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ হয়েছিল। এ বছরও প্রস্তুতি চলছে, তবে অতিবৃষ্টির কারণে আগাম চাষ কিছুটা দেরি হতে পারে।”

বিজ্ঞাপন

এদিকে আলুর দাম কমে যাওয়ায় আগাম আলু চাষে কৃষকদের আগ্রহ কিছুটা হ্রাস পেতে পারে। তবে কৃষি অফিসের সজাগ দৃষ্টি আছে। এমনটাই জানাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা।

শেরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার জানান, “মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা নিয়মিত আবহাওয়ার সতর্কবার্তা ও বালাই জরিপের তথ্য কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। রোপা আমন ধানের পরিচর্যা ও আগাম সবজি চাষ বিষয়ে নিয়মিত উঠান বৈঠক চলছে।”

আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে নানা রোগব্যাধির ঝুঁকি বেড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, দিনে গরম ও রাতে শীতের পার্থক্যের কারণে শিশু ও বয়স্করা সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজিদ হাসান সিদ্দিক বলেন, “বৃষ্টির কারণে ডেঙ্গুর প্রকোপ কিছুটা বেড়ে ছিল, তবে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও সরকারের আগাম প্রস্তুতি ও সচেতনতামূলক প্রচারণার ফলে এবারের আক্রান্তের সংখ্যা কম। আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে।”

জেবি/এসএ
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৫

Developed by: AB Infotech LTD