কিশোরগঞ্জে যুবদল নেতার নেতৃত্বে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার মৃগা ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সবু শেখ ও ইউপি সদস্য মারজান মেম্বারের নেতৃত্বে ৩টি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) রাতে পূর্বহাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২৫ জন আহত হন। গুরুতর পাঁচজনকে সিলেট, হবিগঞ্জ, আজমিরীগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বালিখলা ও মিঠামইন ফেরিঘাটে টোল আদায় শুরু
আহতরা হলেন, হামদু মিয়া (৫৪), নাসির মিয়া (৩২), পায়েল মিয়া (১৬), কুদ্দুস মিয়া (৬০), সাদ্দাম হোসেন (৩৫), তরিকুল ইসলাম (২৫), লাদেন মিয়া (২০), কবির মিয়া (৪০), মোখলেস মিয়া (৫৩), রাহুল মিয়া (১৮), সাপলে মিয়া (১৮), আবুল মিয়া (৪০), খাইরুল ইসলাম (৪৫), বাসিরুল মিয়া (১৮), আলমগীর মিয়া (৪০), জিলানগীর মিয়া (৩৫), মাহফুল মিয়া (১২), মুবারক মিয়া (১৬)সহ আরও অনেকে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃগা পিপি স্কিমের ধান কাটাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার এমরাজুল ও নাসিরের মধ্যে বাকবিতণ্ডার জেরে পরদিন রাতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, এমরাজুলের পক্ষ নিয়ে সবু শেখ, মারজান মেম্বারসহ দেড় থেকে দুইশ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ব্যবসায়ী আশরাফুল করিম টিটু, দেলোয়ার হোসেন ও লেলিনের বাড়িতে হামলা চালায়।
প্রথমে ডাইনামিক ওভারসিস লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী আশরাফুল করিম টিটুর বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চলে। তাঁর স্ত্রী মর্জিনা আক্তার অভিযোগ করেন, আলমারি ভেঙে ৪১ লাখ টাকা ও ৭ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে গেছে হামলাকারীরা। তিনি জানান, বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া কয়েকজনের কাছ থেকে এই টাকা নিয়েছিল।
পরে দেলোয়ার হোসেনের বাড়িতে হামলা করে লুটপাট চালানো হয়। তাঁর স্ত্রী দিপা বলেন, আলমারি থেকে ১০ লাখ টাকা ও ১০ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে গেছে। একইভাবে আত্মীয়তার সূত্র ধরে লেলিনের কুড়েঘরেও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানান তাঁর স্ত্রী রাজবাহার।
বিজ্ঞাপন
আহতদের স্বজনদের অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে হঠাৎ হামলার কারণে তাঁরা ছোট সন্তানসহ প্রাণ বাঁচাতে ঘর থেকে পালিয়ে যান। ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তাঁরা।
ইউপি সদস্য ছাইকুল ইসলাম আবুল বলেন, পিপি স্কিমের জের ধরেই এই সংঘর্ষ। উকিল আজিজুলের বাড়ির লোকজনের ওপর সবু শেখের লোকজন হামলা চালিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদল নেতা সবু শেখ বলেন, এলাকায় আধিপত্য নিয়ে তারা নিজেরাই বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে। আমি ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই।
ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল হাসিম বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছে। উভয় পক্ষকে অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।








