রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক আবদুল গফুর সাময়িক বরখাস্ত

রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন ওয়ার্কস দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ও প্রকল্প পরিচালক আবদুল গফুরকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের বিরুদ্ধে অস্থিরতা সৃষ্টি, আইসিটি সংক্রান্ত অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার ধারাবাহিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, আজ রিজেন্ট বোর্ডের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে আবদুল গফুরকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিস্তারিত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশ, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষায় রিজেন্ট বোর্ড এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে সব অভিযোগের নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করা হবে এবং আইন ও বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্তকালীন সময়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা কোনো প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।”
বিজ্ঞাপন
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তার কিছু কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক প্রশাসনিক পরিবেশকে বিঘ্নিত করেছে। শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে প্রশাসন আশা করছে, সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থী ও শিক্ষাকর্মীদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে কোনো প্রভাব ফেলবে না।
প্রসঙ্গত, আবদুল গফুরের বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। টেন্ডার ও কোটেশনবিহীন আসবাবপত্র সরবরাহের বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। তিনি আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডেও কর্মরত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
এছাড়া উপাচার্যকে নিয়ে উঠা সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য ২৪ শতাংশ কোটা নিশ্চিত করা হলেও শিক্ষক নিয়োগে আঞ্চলিক কোনো কোটা প্রযোজ্য নয়। নিয়োগ দেওয়া হয়েছে মেধার ভিত্তিতে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ড বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, প্রতিষ্ঠান শৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং অভিযোগের যথাযথ তদন্ত শেষ হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








