Logo

খেজুর রস সংগ্রহে নতুন পথ, গাছিরা ঝুঁকছেন প্লাস্টিক বোতলে

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
বগুড়া
১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ১৯:৫০
খেজুর রস সংগ্রহে নতুন পথ, গাছিরা ঝুঁকছেন প্লাস্টিক বোতলে
ছবি: সংগৃহীত

শীত এলেই গ্রামবাংলায় খেজুর রসের কথা আলাদা করে মনে পড়ে। ভোরের কুয়াশা আর ঠান্ডার মধ্যে খেজুর গাছ থেকে ঝরে পড়া মিষ্টি রস বহুদিন ধরে বাঙালির শীতকালীন সংস্কৃতির অংশ। তবে সময়ের সঙ্গে এই যুক্ত হয়েছে স্বাস্থ্য সচেতনতার নতুন ভাবনা। নিপা ভাইরাসের ঝুঁকি কমাতে এখন মাটির হাঁড়ির বদলে প্লাস্টিক বোতলে নেট দিয়ে ঢেকে খেজুরের রস সংগ্রহে ঝুঁকছেন গাছিরা।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ভোরে এমন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের ঘোলাগাড়ী গ্রামে। আগে খোলা মাটির হাঁড়িতে রস সংগ্রহ করা হতো। এতে বাদুড় ও বিভিন্ন কীটপতঙ্গ সহজেই রসে প্রবেশ করত। সেই রস অনেক সময় অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়ত, যা নিপা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। এ কারণেই স্থানীয় গাছিরা এখন প্লাস্টিক বোতল ব্যবহার করছেন।

খেজুরের রস দিয়ে তৈরি হয় ফিরনি ও পায়েস। আবার রস জ্বাল দিয়ে তৈরি করা গুড় দিয়ে শীতের দিনে ভাঁপা পিঠা, চিতই পিঠা, খই, চিড়া ও মুড়িসহ নানা রকম পিঠাপুলি বানানো হয়। অনেকে বিশ্বাস করেন, খেজুরের রস শরীরের দুর্বলতা দূর করে। এতে প্রাকৃতিক চিনি ও নানা উপাদান থাকলেও কাঁচা রস পান করলে স্বাস্থ্য ঝুঁকিও থাকে।

বিজ্ঞাপন

ঘোলাগাড়ী গ্রামের গাছি বাদশা জানান, তিনি প্রতি বছর প্রায় ১০টি খেজুর গাছ প্রস্তুত করেন। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গাছ লাগিয়ে পরদিন ভোরে রস সংগ্রহ করেন। সেই রস তিনি ফেরি করে বিক্রি করেন এবং লালি বানান। এতে বছরে তার প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা আয় হয়, যা বাড়তি আয়ের উৎস।

তিনি বলেন, বাদুড় ও কীটপতঙ্গের প্রবেশ ঠেকাতেই এখন মাটির হাঁড়ির বদলে প্লাস্টিক বোতল ব্যবহার করছেন। গ্রামের অনেকেই নিজেদের খাওয়ার জন্য কিংবা বিক্রির উদ্দেশ্যে খেজুর গাছ লাগান।

একই গ্রামের আরেক গাছি মিঠু বলেন, তিনি রস জ্বাল দিয়ে লালি ও গুড় তৈরি করেন মূলত পরিবারের জন্য অনেকে বিক্রিও করেন। এই গ্রামে অনেকেই খেজুরের গুড় বানান, যা শীতের খাবারে আলাদা স্বাদ যোগ করে। মিঠুর বক্তব্যের সুরেই কথা বলেন মো. আজম।

বিজ্ঞাপন

খেজুরের রস সাধারণত অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়। ঠান্ডা আবহাওয়া, মেঘলা আকাশ ও কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল রস পাওয়ার জন্য সবচেয়ে উপযোগী। পৌষ ও মাঘ মাসে রসের পরিমাণ ও স্বাদ সবচেয়ে ভালো থাকে। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রসের পরিমাণ ও মান কমে যায়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দূষিত কাঁচা খেজুরের রসের মাধ্যমে নিপা ভাইরাস মানবদেহে ছড়াতে পারে।

বিজ্ঞাপন

এবিষয়ে ডা. গোলাম হামিম জানান, এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, শ্বাসকষ্ট, মানসিক বিভ্রান্তি, খিঁচুনি ও এনসেফালাইটিস দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে রোগটি দ্রুত মারাত্মক আকার ধারণ করে এবং মৃত্যুঝুঁকিও বেশি থাকে। তাই কাঁচা খেজুরের রস এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজিদ হাসান সিদ্দিক বলেন, শীতকালে মানুষের খেজুরের রস খাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। কিন্তু যেহেতু এই রসের মাধ্যমে নিপা ভাইরাস ছড়াতে পারে, সে কারণে সবাইকে কাঁচা খেজুরের রস না খাওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

জেবি/এএস
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD