রাতের ফুটবল টুর্নামেন্টে বোরকা–জুব্বা পরা নাচের ভিডিও ভাইরাল

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের কোরাইশমুন্সী এলাকায় আয়োজিত এক রাত্রিকালীন মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচে বোরকা ও জুব্বা পরিহিত কয়েকজন তরুণের নাচানাচির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় পর্যায় ছাড়িয়ে জেলা জুড়ে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত খেলায় এ দৃশ্য দেখা যায়।
বিজ্ঞাপন
জানা গেছে, ফেনী জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সবুজের উদ্যোগে আয়োজিত ওই টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা চলাকালীন মাঠের ভেতরেই হঠাৎ করে এই নাচানাচির ঘটনা ঘটে। মুহূর্তেই উপস্থিত দর্শকদের দৃষ্টি কাড়ে বিষয়টি এবং পরে এর ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, বোরকা ও জুব্বা পরা ৮ থেকে ৯ জন তরুণ একে অপরের হাত ধরে প্রকাশ্যে নাচতে থাকেন। তারা নাচের ছলে দর্শকদের উদ্দেশে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করেন। মাঠের বাইরে থাকা দর্শকদের একটি অংশ হাততালি দিয়ে তাদের উৎসাহ দিতে দেখা যায়।
বিজ্ঞাপন
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই মন্তব্য করেন, ধর্মীয় পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে পরিচিত বোরকা ও জুব্বার মতো পোশাককে এভাবে উপহাসমূলক আচরণে ব্যবহার করা অনৈতিক এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের শামিল। তাদের মতে, বিনোদনের অজুহাতে এমন কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
সামাজিক মাধ্যমে আজিজুল হক মানিক নামের একজন মন্তব্য করে লেখেন, ফুটবল মাঠে এভাবে বোরকা পরে নাচানাচি করে ইসলামকে অবমাননা করা হয়েছে। তিনি আয়োজক কমিটির কাছে দুঃখ প্রকাশের দাবি জানান এবং সংশ্লিষ্টদের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, এটি নিছক বিনোদন নয়, বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার শামিল।
আরেক নেটিজেন শরিকুল ইসলাম লেখেন, তরুণদের জন্য খেলাধুলার আয়োজন অবশ্যই প্রশংসনীয়। তবে মাঠে ধর্মীয় পোশাক পরিধান করে নাচানাচি করার মাধ্যমে মুসলিমদের ভাবাবেগে আঘাত করা হয়েছে এবং ইসলামী পোশাকের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মাদ ফয়জুল আজীম। এছাড়া স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
এ বিষয়ে আয়োজক ইসমাইল হোসেন সবুজ বলেন, ঘটনাটি সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত ছিল এবং এটি তাদের পরিকল্পনার বাইরে ঘটেছে। তার দাবি, ৯ থেকে ১৫ বছর বয়সী কয়েকজন কিশোর দর্শকদের বিনোদনের উদ্দেশ্যে আরবীয় পোশাক পরিধান করে মাঠে নাচানাচি করে, যা অনেকের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। আয়োজক হিসেবে তিনি এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন এবং সবার কাছে ক্ষমা চান।
বিজ্ঞাপন
দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মাদ ফয়জুল আজীম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে তিনি অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, তবে খেলার মাঝপথে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে বক্তব্য দিয়ে তিনি স্থান ত্যাগ করেন।








