মিড ডে মিলের আলো, রাজারহাটে ভর্তি বেড়েছে

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখন চালু হয়েছে মিড ডে মিল প্রকল্প। বিদ্যালয়ে দুপুরে খাবার দেওয়ার এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও ভর্তি—দুই ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।
বিজ্ঞাপন
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, রাজারহাট উপজেলার ১২৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই প্রকল্প কার্যকর করা হয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৫ হাজার ৯৯২ জন। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ১৩ হাজার ৯৪৩ জন শিক্ষার্থী প্রতিদিন স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পাচ্ছে।
প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় রয়েছে দুটি রুটি, একটি কলা, একটি সেদ্ধ ডিম, ইউএইচটি দুধ ও ফরটিফাইড বিস্কুট। নিয়মিত এ খাবার পেয়ে শিক্ষার্থীরা যেমন স্কুলে আসতে আগ্রহী হচ্ছে, তেমনি ঝরে পড়ার হারও কমে গেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
বিজ্ঞাপন
নাজিমখান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আতাউর রহমান বলেন, মিড ডে মিল চালুর পর থেকে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এখন অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করাচ্ছেন। গত বছরের তুলনায় ভর্তি হার বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ।
চায়না বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম (মঞ্জু) বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে বর্তমানে উপস্থিতি ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ। আগে দুপুরে ক্ষুধার কারণে অনেকে অনুপস্থিত থাকত, এখন তারা নিয়মিত আসে এবং ক্লাসে মনোযোগও বেড়েছে।
বিজ্ঞাপন
অভিভাবক মোছা. হাসিনা বেগম বলেন, আগে আমার সন্তান স্কুলে যেতে চাইত না। এখন সকালে নিজে থেকেই প্রস্তুতি নেয়, কারণ জানে স্কুলে দুপুরে খাবার পাওয়া যাবে। এতে ওর স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ অনেক বেড়েছে।
রাজারহাট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শরীফ আহম্মদ বলেন, রাজারহাটের সব ১২৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মিড ডে মিল প্রকল্পের আওতায় এসেছে। বর্তমানে ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী এই সুবিধা পাচ্ছে। আমরা নিশ্চিত করতে কাজ করছি যেন শতভাগ শিক্ষার্থীই প্রকল্পের আওতায় আসে।
তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য শুধু পুষ্টি সরবরাহ নয়—শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি, ঝরে পড়া কমানো এবং শিক্ষা মানোন্নয়ন করা। মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, রাজারহাটে প্রকল্পটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
বিজ্ঞাপন
শিক্ষা কর্মকর্তাদের আশা, প্রকল্পটি অব্যাহত থাকলে রাজারহাটের প্রাথমিক শিক্ষার মান ও অংশগ্রহণ দুই ক্ষেত্রেই আরও উন্নতি ঘটবে।








