Logo

কোম্পানীগঞ্জে ভূমি সেবায় স্বচ্ছতার ছোঁয়া

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
নোয়াখালী
২৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ২২:০৭
কোম্পানীগঞ্জে ভূমি সেবায় স্বচ্ছতার ছোঁয়া
ফাইল ছবি।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসকে দালালমুক্ত ঘোষণা করে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি টানিয়েছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবাইয়া বিনতে কাশেম। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে—ভূমি সংক্রান্ত যে কোনো সেবা নিতে হলে দালাল ছাড়াই সরাসরি অফিসে হাজির হতে হবে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিজ্ঞপ্তির বাস্তব প্রতিফলন। জায়গা-জমি পরিমাপ কিংবা নামজারির হিসাব না বুঝলেও সেবা প্রত্যাশীদের নিজ উদ্যোগেই উপস্থিত হতে হচ্ছে ভূমি অফিসে। কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই মিসকেস, নামজারি ও অন্যান্য ভূমি সংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধান মিলছে।

অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে কোম্পানীগঞ্জে ভূমি সেবায় এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ৩৮তম বিসিএস ক্যাডারের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবাইয়া বিনতে কাশেম। জানা যায়, গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর তিনি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই ধারাবাহিকভাবে দালাল ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন তিনি। নানা ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে অবশেষে ভূমি অফিসকে দালালমুক্ত ঘোষণা করেন।

বিজ্ঞাপন

শুধু ভূমি অফিস নয়, উপজেলার হাসপাতাল, ফার্মেসি, খাবার হোটেল, মাটি ও বালু উত্তোলনসহ জনজীবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নানা খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রেকর্ডসংখ্যক অভিযান পরিচালনা করেছেন তিনি। গত চার মাসে প্রায় ৫৫টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জেল, জরিমানা ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন, যা কোম্পানীগঞ্জে একটি নতুন রেকর্ড।

ভূমি অফিসে নামজারির দায়িত্বে থাকা নাজিম উদ্দিন বলেন,“এখন আর আগের মতো দালালের খপ্পরে পড়ে হয়রানি হতে হচ্ছে না সেবা প্রত্যাশীদের। নামজারিসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজ অল্প সময়েই শেষ হচ্ছে। অফিসে এখন আর দালালের আনাগোনা নেই, নেই বস্তাবন্দি ফাইল কিংবা অনিয়ম।”

বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবাইয়া বিনতে কাশেম একজন সৎ, দক্ষ ও কর্মনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। মাত্র চার মাসে অফিসের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতিবিরোধী সাহসী পদক্ষেপের মাধ্যমে একজন সাহসী নারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে ভূমি রেকর্ড ব্যবস্থাপনা ও নামজারি প্রক্রিয়া সহজ হয়েছে। সর্বোচ্চ ২৮ দিনের মধ্যেই কোনো অবৈধ লেনদেন ছাড়াই নামজারির আবেদন নিষ্পত্তি হচ্ছে। খাল ও সরকারি সম্পত্তি দখলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মাটি ও বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত আপোষহীন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন তিনি। অভিযোগ পেলেই দিন-রাত ছুটে যাচ্ছেন ঘটনাস্থলে।

সপ্তাহে একদিন মিসকেস শুনানির নিয়ম থাকলেও বাস্তবে প্রায় প্রতিদিনই শুনানি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবাইয়া বিনতে কাশেম বলেন, “সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সেবা প্রত্যাশীরা অনলাইনে আবেদন করে নির্ধারিত তারিখে এসে সেবা নিচ্ছেন। সরকারের নির্ধারিত ফি ছাড়া গত চার মাসে কোনো ধরনের অবৈধ লেনদেন হয়নি। অবৈধ লেনদেনে বঞ্চিত একটি চক্র আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে, যা কাপুরুষতার পরিচয়। তবে এতে আমার নৈতিকতা ও দায়িত্ব পালনে কোনো প্রভাব পড়বে না।”

তিনি উপজেলার সকল সেবা প্রত্যাশীকে কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি ভূমি অফিসে এসে সেবা নেওয়ার আহ্বান জানান।

জেবি/এসডি
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD