বাসাবাড়িতে মিলল বিরল অপরূপ সুন্দর ‘কালনাগিনী’ সাপ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি বাসার ভেতর থেকে বিরল প্রজাতির ‘কালনাগিনী’ সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। লাল, কালো ও হলুদ রঙের দৃষ্টিনন্দন এ সাপটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে পরে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বিজ্ঞাপন
সোমবার দিবাগত গভীর রাতে শ্রীমঙ্গল সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারে বসবাসকারী শ্রাবণ পালের ঘরে সাপটি দেখা যায়। হঠাৎ ঘরের ভেতরে রঙিন সাপটি দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। তাদের চিৎকার-চেঁচামেচিতে সাপটি ঘরের ভেন্টিলেটরের একটি কোণায় গিয়ে কুণ্ডলী পাকিয়ে বসে থাকে।
শ্রাবণ পাল জানান, রাতের বেলায় পরিবারের সদস্যরা ঘরের মধ্যে সাপটি দেখতে পান। এমন অচেনা ও আকর্ষণীয় রঙের সাপ দেখে সবাই ভয় পেয়ে যান। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানানো হলে বন্যপ্রাণী উদ্ধারকর্মীদের খবর দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি প্রায় এক ঘণ্টা ধরে সতর্কতার সঙ্গে অভিযান চালিয়ে সাপটিকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। উদ্ধার শেষে রাতেই সাপটিকে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্বপন দেব সজল বলেন, উদ্ধার হওয়া সাপটি ‘কালনাগিনী’ নামে পরিচিত, যা দেশে অত্যন্ত বিরল। একসময় বিভিন্ন এলাকায় এ সাপ দেখা গেলেও বর্তমানে সচরাচর এদের দেখা মেলে না। তাই সাপটিকে ক্ষতি না করে উদ্ধার করা সম্ভব হওয়ায় তারা সন্তুষ্ট।
বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ বিষয়ে কাজ করা বন বিভাগের কর্মকর্তা এবং তরুণ গবেষক জোহরা মিলা বলেন, দেশে পাওয়া সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন সাপগুলোর মধ্যে কালনাগিনী অন্যতম। এর বৈজ্ঞানিক নাম ‘অর্নেট ফ্লাইং স্নেক’। বিভিন্ন অঞ্চলে এ সাপকে উড়াল সাপ, সুন্দরী সাপ কিংবা কালসাপ নামেও ডাকা হয়।
বিজ্ঞাপন
তিনি জানান, ইংরেজি নামের সঙ্গে ‘ফ্লাইং স্নেক’ শব্দটি থাকলেও সাপটি বাস্তবে উড়তে পারে না। এটি সাধারণত গাছের উঁচু ডাল থেকে নিচের ডালে লাফিয়ে বা শরীর ছড়িয়ে নেমে আসে। এ কারণেই অনেকের কাছে সাপটিকে উড়ন্ত সাপ বলে মনে হয়।
গবেষকদের মতে, কালনাগিনী একটি নির্বিষ ও শান্ত স্বভাবের সাপ। দিনের বেলায় এরা বেশি সক্রিয় থাকে। খুব বেশি বিরক্ত না করলে বা আক্রমণের মুখে না পড়লে সাধারণত এ সাপ মানুষকে কামড়ায় না।
আরও পড়ুন: পিরোজপুরে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস পালিত
বিজ্ঞাপন
খাদ্যাভ্যাসের দিক থেকে কালনাগিনী মূলত ইঁদুর, টিকটিকি, গিরগিটি, ব্যাঙ, ছোট পাখির ডিম এবং বিভিন্ন ধরনের কীটপতঙ্গ খেয়ে বেঁচে থাকে। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও এদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত এ সাপের প্রজননকাল। এ সময় স্ত্রী সাপ একসঙ্গে ৬ থেকে ১২টি পর্যন্ত ডিম পাড়ে। প্রায় দুই মাস পর ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়।
জোহরা মিলা আরও বলেন, কালনাগিনী নিয়ে মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ভুল ধারণা রয়েছে। নাটক ও সিনেমায় এ সাপকে ভয়ংকর বিষধর হিসেবে দেখানো হলেও বাস্তবে এটি সম্পূর্ণ নির্বিষ। ভুল তথ্য ও কুসংস্কারের কারণে অনেকেই সাপটি দেখামাত্র মেরে ফেলেন।
বিজ্ঞাপন
তার মতে, এ ধরনের ভুল ধারণা দূর করা জরুরি। কারণ, অকারণে মানুষ এই বিরল ও সুন্দর প্রাণীটিকে হত্যা করছে, যা এদের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলছে। তাই কালনাগিনীর মতো নির্বিষ বন্যপ্রাণী দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী সংস্থা বা বন বিভাগকে খবর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।








